সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: লোকালয়ে মানুষ-হাতি সংঘাতের ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনতে রাজ্য বনদপ্তর সোলারের ঝুলন্ত ফেন্সিং দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিমধ্যেই বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রাজাভাতখাওয়া ও পানবাড়িতে বনদপ্তরের এমন ঝুলন্ত ফেন্সিং সফল হয়েছে। ওই দুই এলাকায় লোকালয়ে হাতি প্রবেশের ঘটনা বর্তমানে শূন্যে ঠেকেছে। হাতির মুখ থেকে বাসিন্দাদের জমির ফসলও রক্ষা পেয়েছে। একইভাবে মাঝেরডাবরি চা বাগান ও নিমতি এলাকাতেও বনদপ্তরের এই ঝুলন্ত সোলার ফেন্সিং সফল হয়েছে।
এবার বক্সার পূর্ব ডিভিশনের ভল্কা, খোঁয়ারডাঙা, মারাখাতা ও শিলটং বনবস্তি হয়ে মহাকালগুড়ি পর্যন্ত মোট ২৭ কিমি এলাকায় হাতি ঠেকাতে সোলারের ঝুলন্ত ফেন্সিং দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বনদপ্তর। এর মধ্যে মহাকালগুড়ি এলাকাটি পড়েছে আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকে। বাকি এলাকাগুলি পড়েছে কুমারগ্রাম ব্লকে। বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ বলেন, এই ২৭ কিমি ঝুলন্ত সোলার ফেন্সিং দিতে খরচ হবে ৬৫ লক্ষ টাকা। শুধু বক্সা নয়, মাদারিহাট ব্লকে থাকা জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান লাগোয়া লোকালয়গুলিতেও হাতি ঠেকাতে ভবিষ্যতে ঝুলন্ত সোলার ফেন্সিং দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। মানুষের অসচেতনার কারণে হাতি ও হাতির হামলায় মানুষের মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। আমাদের লক্ষ্য মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাত শূন্যে নামিয়ে আনা। তারই লক্ষ্য হিসাবে এই ঝুলন্ত সোলার ফেন্সিং দেওয়ার পরিকল্পনা।
সম্প্রতি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দু’টি হাতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কুমারগ্রামের ভল্কায় ও আলিপুরদুয়ারের শালকুমারে। লোকালয়ে হাতির হামলায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। ভবিষ্যতে লোকালয়ে হাতি আসা ও হাতি-মানুষের সংঘাত ঠেকাতেই এবার আরও বড়ো পরিসরে বনদপ্তর অন্যান্য এলাকাতেও ঝুলন্ত সোলার ফেন্সিং দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। নির্দিষ্ট দূরত্বে খুঁটি পুঁতে সোলার পরিবাহী তার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তারগুলি হাতির শরীরের সমান উচ্চতায় ঝোলানো থাকে। লোকালয়ে ঢোকার সময় ওই তার দেহে ছুঁয়ে গেলে হাতি মৃদু শক খায়। কিন্তু এই শকে হাতির মৃত্যু হয় না। তবে হাতি ভয় পেয়ে আর লোকালয়ের দিকে যাওয়ার সাহস পায় না।