নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য! তদন্তকারীরা জেনেছেন, ওই নির্মীয়মাণ গোডাউনের ঢালাইয়ে আসল সিমেন্টের সঙ্গে মেশানো হয়েছে কাটা সিমেন্ট। মূলত নির্মাণবর্জ্য, মাটি ইত্যাদি থেকে এক ধরনের সস্তার ও নিম্নমানের সিমেন্ট প্রস্তুত করা হয়। তাকেই চলতি কথায় বলে কাটা সিমেন্ট। পুলিশের দাবি, এভাবে ঢালাইয়ে কাটা সিমেন্ট মেশানোর বিষয়টি যাতে ধরা না পড়ে, তার জন্য তৈরি করা হয়েছিল ভুয়ো বিল। শুধু তাই নয়, ঢালাইয়ের জন্য যে রড ব্যবহার করা হয়েছিল, তার গেজ যথেষ্ট কম ছিল। যে কারণে প্রথম থেকেই কাঠামো নড়বড় করছিল। তারপর ঝড়বৃষ্টিতে তা আরও দুর্বল হয় এবং সহজেই ভেঙে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করে এই তথ্য জানতে পারছেন তদন্তকারীরা।
তারতলায় গোডাউন ভেঙে পড়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে ‘সিট’-এর অফিসাররা বুঝতে পারছেন, একদিকে কাঠামোর নকশায় ত্রুটি, অন্যদিকে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের জন্যই এত বড়ো বিপর্যয় ঘটেছে। তবে এভাবেই যে কাজ চলছে, তা জানতেন পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশ। ঘটনাস্থল থেকে ‘সিট’-এর অফিসাররা পিলার তৈরির জন্য ব্যবহৃত রড, ঢালাইয়ে ব্যবহৃত সিমেন্ট, বালি ও পাথরের নমুনা সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি, যেসব জায়গা থেকে সিমেন্ট এসেছিল, তার বিলের কপি হাতে পান তদন্তকারীরা। সেসব বিল দেখে তাঁরা জানতে পারেন, নামী সংস্থার সিমেন্ট নিয়ে আসা হয়েছিল তাদের গোডাউন থেকেই। কিন্তু বিলগুলি আসল না নকল, সেই খোঁজ করতে গিয়ে অফিসাররা জানতে পারেন যে একাধিক ভুয়ো বিলও রয়েছে। তখন তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, আসলে কাটা সিমেন্ট এনে নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে। ভালো সিমেন্টের সঙ্গে কাটা সিমেন্ট মেশানো হয়েছে। আর সেই কারণে নির্মাণের ভিত নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। পিলারে ব্যবহৃত লোহার রডের নমুনা খতিয়ে দেখে জানা যায়, যত মিলিমিটার গেজের রড দেওয়ার কথা ছিল, তার চেয়ে কম গেজের দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে যত সংখ্যায় রড এক-একটি পিলারে থাকা উচিত ছিল, তার চেয়ে কম রড দেওয়া হয়েছে। ফলে সিমেন্ট ঢালার পর রড তা ধরে রাখতে পারেনি। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে।
প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ‘ডান হাত’ বলে পরিচিত প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে রবিবার তাঁর হাওড়ার বাড়িতে তল্লাশি চালায় ‘সিট’। সেখান থেকে একাধিক জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর। কালীচরণবাবু কোথায় জমা পড়া প্ল্যানের নকশাগুলি রাখতেন, তার খোঁজ চলছে। নিজস্ব চিত্র