


অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: মোহন বাগানের ঘরের ছেলে তিনি। নাড়ির যোগ সবুজ ঘাসে। শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের সোনায় মোড়া ইতিহাসও তাঁকে ছাড়া অসম্পূর্ণ। কিন্তু আসন্ন ক্লাব নির্বাচনে ভোটাধিকারই নেই সুব্রত ভট্টাচার্যের। আশ্চর্যজনক হলেও এটাই সবচেয়ে বড় সত্যি। জানা যাচ্ছে, পদ্ধতি মেনে সদস্যপদ নবীকরণ করেননি বাগানের বাবলু। তাই নির্বাচনে নিয়মের গেরোয় আটকাচ্ছে সুব্রতর ভোটদান। বিষয়টি নিয়ে বর্তমান ক্লাব কর্তাদের উপর ক্ষোভ উগরে দিলেন মোহন বাগান রত্ন। সুব্রতর বিস্ফোরণ, ‘এর জন্য বর্তমান কর্তারা দায়ী। ওরা একবার আমায় বলার প্রয়োজন মনে করল না? সেটা ভেবেই খারাপ লাগছে। এই ক্লাবের জন্য ১৭ বছর উজাড় করে দিয়েছি। শত প্রলোভনেও ইস্ট বেঙ্গল জার্সি গায়ে চাপাইনি। বর্তমান কর্তারা সেসব ভুলেই গেল? এটা স্রেফ ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতা।’
সুব্রতর কড়া ট্যাকল রীতিমতো নাড়িয়ে দিয়েছে মোহন বাগান নির্বাচনকে। অন্যদিকে, শাসক গোষ্ঠীর মুখ দেবাশিস দত্তের মন্তব্য, ‘মেম্বারশিপ কার্ড রিনিউ করার দায়িত্ব খোদ সদস্যের। চুনী গোস্বামীর ক্ষেত্রেও এই নিয়মের হেরফের হয়নি। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’ বিরোধী গোষ্ঠীর সৃঞ্জয় বসু বলছেন, ‘সুব্রত ভট্টাচার্য ভোট দিতে পারবেন না এটা খুবই দুঃখজনক। সারাজীবন যাঁরা ক্লাবের জন্য নিংড়ে দিয়েছেন, তাঁদের সদস্যপদ নিয়ে নতুন ভাবনার প্রয়োজন।’ উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে মোহন বাগান নির্বাচনে ফুটবল সচিব পদে প্রার্থী হয়েছিলেন সুব্রত। এক দশক পর ভোটাধিকারই নেই তাঁর!
মোহন বাগানের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে জোর জল্পনা বটতলায়। একসময় দেবাশিস ও সৃঞ্জয়কে ‘জয়-বীরু’ তকমা দিয়েছিল ময়দান। কিন্তু ভোট যে বড় বালাই! ময়দানে কোনও কিছুই চিরস্থায়ী নয়। ডিডি ও টুম্পাই যুযুধান দু’পক্ষের সেনাপতি। রাজনৈতিক ঢংয়ে ইস্তেহারও প্রকাশ করেছে দুই গোষ্ঠী। মোড়ে মোড়ে চোখধাঁধানো সব হোর্ডিং ও পোস্টার। ভোটাধিকার হারালেও টুটু-সৃঞ্জয়ের হয়ে ব্যাট করতে নেমেছেন সুব্রত। সেটাই এখন সান্ত্বনা বাগানের বাবলুর।