Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

সুভাষের আসল মা

সুভাষের আসল মা
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে করবেন না সুভাষচন্দ্র বসু। এমন এক ধারণা তৎকালীন ভারতবাসীর মনের মধ্যে গেঁথে গিয়েছিল। তবে ‘মা’ বাসন্তী দেবী তাঁকে বিয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করলেই সুভাষ জবাব দিতেন, ‘আমি নিশ্চয়ই বিয়ে করব। কখনও বলিনি বিয়ে করব না।’ এমনই নানা ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা হতো দু’জনের মধ্যে। এমনকী সুভাষচন্দ্রের মা প্রভাবতী বসুও চিত্তরঞ্জন-পত্নীকে বলতেন, ‘তুমিই সুভাষের আসল মা, আমি তো কেবল ধাত্রী।’ সেসময় অনেকেই সুভাষকে জামাই হিসেবে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। সম্বন্ধের আশায় তাঁরা যোগাযোগ করতেন বাসন্তী দেবীর সঙ্গে। একবার এক মেয়ের বাবা কংগ্রেসের তিলক তহবিলে এক লক্ষ টাকা দান করতে চাইলেন। তড়িঘড়ি সুভাষকে ডেকে পাঠালেন দেশবন্ধু। অনুদানের কথা জানালেন। সারাদিনের পরিশ্রমের কথা যেন এক নিমেষে ভুলে গেলেন সুভাষচন্দ্র। খবর শুনে খুব খুশি তিনি। কিন্তু দেশবন্ধু গম্ভীর। তিনি জানালেন, ‘একটা সমস্যা আছে।’ চিন্তিত সুভাষ বললেন, ‘কী সমস্যা?’ তখন দেশবন্ধু বলেন, ‘তোমাকে ওর মেয়েকে বিয়ে করতে হবে।’ চিত্তরঞ্জন দাশের এই তামাশায় মোটেই খুশি হননি সুভাষ। বাসন্তী দেবীর হস্তক্ষেপে সেবার রাগ ভেঙেছিল সুভাষের। পরে মায়ের কাছে ছেলে আবদার করেছিলেন— ‘রাতে তোমার হাতের রান্না খাব।’ একবার বাসন্তী দেবী গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তবে বাংলাজুড়ে জনরোষ দেখে সেদিন ব্রিটিশরা বুঝেছিল, বড়সড় ভুল হয়েছে। মধ্যরাতে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে। দেশবন্ধুর পরিকল্পনা ছিল, গোটা বাংলার ক্ষোভকে কাজে লাগানোর। তাই সেদিনই স্ত্রীকে ফিরে আসতে দেখে হতাশ হন। বাসন্তী দেবীও ক্ষুব্ধ হন স্বামীর উপর। এমন সময় মাকে ফিরে আসতে দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন সুভাষ। এর জন্য তাঁকে ‘ক্রাইং ক্যাপ্টেন’ নামে ডাকতেন দেশবন্ধু।  গতকাল ছিল বাসন্তী দেবীর জন্মদিন।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ