Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ময়নায় আত্মঘাতী মেধাবী ছাত্রী, বর্ধমানে আত্মহত্যা প্রেমিকের

ময়নায় আত্মঘাতী মেধাবী ছাত্রী, বর্ধমানে আত্মহত্যা প্রেমিকের
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: একই সময়ে প্রেমিক-প্রেমিকার অস্বাভাবিক মৃত্যু। তাঁদের আত্মীয়-বন্ধুদের অনুমান, তাঁরা আত্মঘাতী হয়েছেন। সম্ভবত সম্পর্কের টানাপোড়েনেই এই পরিণতি। বুধবার রাত আড়াইটা নাগাদ ময়না থানার কিয়ারানা গ্রামে বন্ধ ঘর থেকে জয়িতা মান্না (২৭) নামে এক যুবতীর দেহ উদ্ধার হয়। জানা যায়, একই সময়ে বর্ধমান শহরে শাঁখারিপুকুরে ভাড়াবাড়িতে তাঁর প্রেমিক রাঙা নায়েকের (২৯) মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ময়না থানার কিয়ারানা গ্রামে জয়িতার বাড়িতে স্থানীয়দের ভিড় লেগে যায়। মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন জয়িতা। পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে এজেন্সি নিযুক্ত কর্মী ছিলেন। তাঁর আচমকা এই পরিণতিতে হাসপাতালের অন্য কর্মীরাও হতবাক।

Advertisement

রাত আড়াইটা নাগাদ জয়িতার মা একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন পান। সেই ফোনে বলা হয়, ‘মেয়ে বাড়িতে ঠিকঠাক আছে কিনা একটু দেখুন’। ফোন কেটেই জয়িতার বাবা ও মা মেয়ের ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু, দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। গাঁইতি এনে দরজা খুলতেই দেখা যায়, সিলিং ফ্যানের ফাঁসে ঝুলছে জয়িতার দেহ। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গড়ময়না গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেহ ময়নাতদন্ত করা হয়।
এরপর খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, বর্ধমান শহরে শাঁখারিপুকুরে ভাড়াবাড়িতে প্রায় একই সময়ে রাঙা নায়েকেরও মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তিনি জয়িতার প্রেমিক। তাঁদের সম্পর্কের কথা ওই যুবতীর বাড়ির লোকজনও জানতেন। বায়োমেডিক্যাল নিয়ে পড়াশোনার সময় অন্ধ্রের যুবক রাঙার সঙ্গে জয়িতার পরিচয়। তারপর ধীরে ধীরে তাঁরা ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ হন। জয়িতা তাঁর এই সম্পর্কের কথা হাসপাতালের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতেন। জানা গিয়েছে, ওই যুবকের পরিবার সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি তুলেছিল। সম্ভবত, এই কারণে সুইসাইড।
রাত আড়াইটা নাগাদ বর্ধমান শহরে ভাড়াবাড়িতে ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পরই সম্ভবত তাঁর রুমমেট জয়িতার বাড়িতে ফোন করেন। তখনই ওই যুবতীর পরিবারের লোকজন দেখেন, মেয়ের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। বৃহস্পতিবার সকাল থে঩কেই কিয়ারানা গ্রামের অনেক মানুষ ওই যুবতীর বাড়িতে হাজির হন। পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের জয়িতার ঘনিষ্ঠরা জানান, ওই যুবতী ভীষণ ভালো মনের ছিলেন। এরকম একটি ঘটনায় সকলেই মর্মাহত।
পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার চন্দনকুমার মণ্ডল বলেন, জয়িতা আমাদের হাসপাতালে প্রায় তিন বছর এজেন্সি নিযুক্ত বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। বুধবার অনেক রাতে তিনি সুইসাইড করেছেন বলে জানতে পেরেছি। এও শুনেছি, তাঁর প্রেমিক যুবকও প্রায় একই সময়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। এরকম এক মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা সকলেই হতবাক। 
জয়িতার বাবা শ্যামাপদ মান্না বলেন, আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। জয়িতা পড়াশোনায় ভালো ছিল। একটি চাকরিও পেয়েছিল। এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক আছে জানতাম। কিন্তু, সেই সম্পর্কে টানাপোড়েনের বিষয়টি জানতাম না। রাত আড়াইটা নাগাদ একটি অচেনা নম্বর থেকে আমাদের বাড়ির মোবাইলে একটি ফোন আসে। মেয়ে সুস্থ আছে কিনা জানতে চায়। তারপর আমরা মেয়ের ঘরে ঢোকার চেষ্টা করি। কিন্তু, দরজা আটকানো ছিল। গাঁইতি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে গিয়ে দেখি, সব শেষ। সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মেয়ে ঝুলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ