Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সন্দেশখালিতে রণকৌশল বৈঠক, বুথে বুথে নজরদারি বাড়াচ্ছে তৃণমূল

সন্দেশখালিতে লড়াইয়ের আগে নিজেদের এগিয়ে রাখতে মাঠ সাজাতে শুরু করেছে তৃণমূল। রবিবার বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের জরুরি বৈঠকে সেই রণকৌশলের রূপরেখা তৈরি হয়েছে।

সন্দেশখালিতে রণকৌশল বৈঠক,  বুথে বুথে নজরদারি বাড়াচ্ছে তৃণমূল
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সন্দেশখালিতে লড়াইয়ের আগে নিজেদের এগিয়ে রাখতে মাঠ সাজাতে শুরু করেছে তৃণমূল। রবিবার বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের জরুরি বৈঠকে সেই রণকৌশলের রূপরেখা তৈরি হয়েছে। সংগঠন চাঙা করা থেকে শুরু করে বিরোধীদের কৌশল মোকাবিলা সব কিছু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সন্দেশখালিতে প্রার্থী নির্বাচনে বিরোধীদের প্রথম ধাক্কা দিয়েছে তৃণমূল, মনে করছে শাসকদলের একাংশ। সন্দেশখালিতে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন ঝর্ণা সর্দার।

Advertisement

গত বছরের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যেখানে মহিলাদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছিল, সেখানে একজন মহিলা প্রার্থীকে সামনে আনা নিছক কাকতালীয় নয় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বরং এটাকে স্পষ্ট বার্তা হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে জোড়াফুল শিবির। সেখানে বিরোধীদের বিরুদ্ধে পালটা আক্রমণের সুযোগ দেখছে তৃণমূল। বিজেপি এই কেন্দ্রে কোনো মহিলা প্রার্থী দিতে পারেনি—বিষয়টিকে বড়ো করে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, এক সময় সন্দেশখালির ঘটনাকে সামনে রেখে মহিলা দরদের প্রচার করত বিজেপি। কিন্তু প্রার্থী নির্বাচনে সেই অবস্থানের প্রতিফলন নেই। ফলে ‘কথা আর কাজের ফারাক’ এই ইস্যুকে এখন মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইছে শাসকদল। বুথস্তর থেকে এই বিষয়টি জোর প্রচারে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রের দাবি। তবে, এই ইস্যুর উপর ভরসা করে থাকতে চাইছে না তৃণমূল। কারণ, সন্দেশখালির স্মৃতি এখনও তাজা। 
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জমি আন্দোলন যেভাবে বিস্ফোরক রূপ নিয়েছিল এবং তৎকালীন তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানকে ঘিরে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা শাসকদলের জন্য বড়ো ধাক্কা ছিল। বিশেষ করে মহিলাদের প্রতিবাদ আন্দোলনকে অন্য মাত্রা দিয়েছিল। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বে আব্রু হয়েছে  বিজেপির ‘প্ল্যান’। 
এখন সংগঠনকে নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বুথভিত্তিক সংগঠন আরও সক্রিয় করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা নেতৃত্ব ও কর্মীদের মাঠে নামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে যোগাযোগ বাড়ানো, স্থানীয় সমস্যার খোঁজ নেওয়া এবং দ্রুত সমাধানের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘বহিরাগত’ ইস্যুতেও সরব তৃণমূল। দলীয় সূত্রে দাবি, জলবেষ্টিত এলাকায় বিজেপি বাইরে থেকে কর্মী এনে সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। সেই প্রেক্ষিতে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বুথস্তরে বিশেষ টিম গঠন করে কে কোথা থেকে আসছে, কারা সক্রিয় হচ্ছে, সেই সব তথ্যের উপর কড়া নজর রাখার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। মহিলা ভোটারদের দিকে আলাদা করে নজর দিচ্ছে শাসকদল। দলীয় প্রার্থী ঝর্ণা সর্দারকে সামনে রেখে মহিলাদের মধ্যে পৌঁছনোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। গত বছরের আন্দোলনে যাঁরা রাস্তায় নেমেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। 
এনিয়ে সন্দেশখালির বিদায়ী বিধায়ক সুকুমার মাহাত বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা। বুথস্তরে সংগঠনে জোর দিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা বিজেপির যুব সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, যতই ওরা ফন্দি করুক সব সন্দেশখালির জলে ভেসে যাবে। মানুষ ওদের কীভাবে হারাবে তা ভাবতে পারছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ