


সংবাদদাতা, বনগাঁ: আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে আশ্বস্ত হয়েছেন বাসিন্দারা। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমায় প্রায় ৯২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাংলাদেশ সীমান্ত। এরমধ্যে প্রায় ৭২ কিমি স্থলপথ। মহকুমার রণঘাট, বয়রা, সুটিয়া, ঝাউডাঙা, আংরাইল, পেট্রাপোল, ছয়ঘরিয়া প্রভৃতি এলাকায় অনেকাংশে নেই কাঁটাতারের বেড়া। অতীতে এইসব গ্রামে একাধিক দুষ্কৃতী কার্যকলাপ ঘটেছে। সীমান্তের বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া হলে কমবে দুষ্কৃতী কার্যকলাপ।
স্থানীয় বাসিন্দারা শোনালেন সেদিনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞাতা। ২০১৪ সাল। তখন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আংরাইল দিয়ে গোরু পাচার চলছে রমরমিয়ে। সারাদিন গোরু এনে জড়ো করা হত প্রায় দশ বিঘা জমি নিয়ে তৈরি খাটালে। রাতের অন্ধকারে সেখান থেকে বাংলাদেশ পাচার হত গোরু। শ’য়ে শ’য়ে গোরু বাড়ির উঠোনের উপর দিয়ে নিয়ে যেতে দেখেছেন বাপি হালদার (নাম পরিবর্তিত)। জমির ফসল নষ্ট করত বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। তাদের হাতে থাকত বড়ো বড়ো হাঁসুয়া। লুঙ্গির ভাঁজে কোমরে গোঁজা থাকত আগ্নেয়াস্ত্র। ভয়ে টুঁ শব্দ করতেন না বাপি। একদিন পাচারকারীদের কাছ থেকে কাজের অফার পেয়েছিলেন। খাটাল থেকে গোরু বাংলাদেশে পৌঁছে দিতে হবে। গোরু প্রতি ৩০০ টাকা। তিনি ভয়ে রাজি হননি।
গাইঘাটা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা কাঁটাতার বিহীন। এক বাসিন্দা খোকা হালদার বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ যত তাড়াতাড়ি কার্যকর হয় ততই ভালো। আমরা চাই, দ্রুত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হোক। তারজন্য আমরা জমি দিতে প্রস্তুত। বাগদার ব্লকের অন্যতম ‘ছিটমহল’ লক্ষ্মীপুর। বাসিন্দাদের গ্রামে ঢুকতে বিএসএফের অনুমতি লাগে। গ্রামে চারিপাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে কপোতাক্ষ নদী। ওপারে বাংলাদেশ। প্রায় ৬ কিলোমিটার জুড়ে নেই কাঁটাতার। গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ হালদার বলেন, রাত হলে ভয় লাগে। নদী পেরিয়ে যদি বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা চলে আসে! কাঁটাতারের বেড়া হলে ভয় থাকবে না। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে রাজ্য সরকার উদ্যোগী হওয়ায় খুশি বনগাঁর সুটিয়ার বাসিন্দারাও।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গাইঘাটায় কাঁটাতারের জন্য প্রায় ১০০ একর জমি প্রয়োজন। এরমধ্যে প্রায় ৮৮ একর জমির মালিক জমি দিতে সম্মতি দিয়েছেন। এরমধ্যে প্রায় ৬০ একর জমি কেনা হয়েছে চাষিদের কাছ থেকে। বনগাঁ ব্লকে প্রায় ২৪ একর জমি প্রয়োজন। প্রায় ২০ একর জমির সম্মতি মিলেছে। কেনা হয়েছে প্রায় ১৪ একর। বাগদা ব্লকে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে প্রায় ৯৯ একর জমি প্রয়োজন। সেখানে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৮ একর জমি কেনা হয়েছে। অতীতে কাঁটাতার বিহীন এলাকা দিয়ে এদেশে এসে একাধিক দুষ্কৃতী কার্যকলাপ ঘটিয়েছে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। এইসব এলাকা দিয়েই হতো গোরু পাচার। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হলে পাচার ও অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।