নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পালাবদলের পর বন্ধ জেশপ কারখানা নিয়ে প্রথম বৈঠকে আশার আলো দেখাল রাজ্য সরকার। সোমবারের বৈঠকে রাজ্যের শ্রম ও পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারিখ পে তারিখের কালচার শেষ। এবার পদক্ষেপ নেওয়ার সময়। জেশপের মতো ডানলপ কারখানাও দ্রুত খুলবে। সরকার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। কারখানা বছরের পর বছর বন্ধ থাকবে, আর শ্রমিকদের ভাতা দিয়ে যাবে সরকার, এই ব্যবস্থা দীর্ঘদিন চলতে পারে না। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সরকারের তরফে বন্ধ কারখানা খোলার আশ্বাস পেয়ে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন।
দমদমে বন্ধ জেশপ কারখানা খোলার বিষয়ে গত কয়েক দশকে একের পর এক প্রতিশ্রুতি ও টানাপোড়েন দেখতে অভ্যস্ত রাজ্যবাসী। ডানলপ কারখানার ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু আজও খোলেনি রাজ্যের এই দুই প্রাচীন কারখানা। পালা বদলের পর নতুন করে কারখানা খুলতে উদ্যোগী হয়েছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও স্থানীয় বিধায়করা। সোমবার জেশপ কারখানা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে রাজ্যের শ্রমদপ্তর। সেই বৈঠকে জেশপের পাঁচটি শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং-এ আয়োজিত এই বৈঠকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাজ্যের শ্রম ও পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং এবং দপ্তরের সচিব সহ অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর একইভাবে বন্ধ ডানলপ কারখানার শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করা হয়। অর্জুন সিং বলেন, জেশপ ও ডানলপ নিয়ে এদিন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, জেশপে ১২৫ জন শ্রমিক মাসিক ভাতা পান। এছাড়াও ৬৫০ জন শ্রমিকের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির টাকা বাকি রয়েছে। একইভাবে ডানলপের ৫৪ জন শ্রমিক সরকারি ভাতা পান। প্রায় ১,৪০০ শ্রমিকের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির টাকা বকেয়া রয়েছে। এই দুই কারখানার মোট জমির পরিমাণ কত, শ্রমিক সংখ্যা কত, তাঁদের বকেয়ার অঙ্ক কত, কারখানার জমির কতটা অংশ বেদখল হয়েছে, কারখানার মধ্যে কী কী সামগ্রী রয়েছে এবং কী কী চুরি গিয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা চাই, এই দু’টি কারখানা দ্রুত খুলুক। কারখানা খুলতে যা পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা রাজ্য সরকার নেবে। জেশপ কোম্পানি লিমিটেড ওয়ার্কার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সম্পাদক তথা জেশপ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অত্যন্ত সদর্থক বৈঠক হয়েছে। শ্রম ও পরিবহণমন্ত্রী বলেছেন, তারিখ পে তারিখের কালচার শেষ হয়েছে। এবার কাজ করে দেখানোর সময়। জেশপ খুলতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা দ্রুত জেশপ ও রেল কারখানা চালুর দাবি জানিয়েছি।