Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফ্রি বাসযাত্রার জন্য মহিলাদের স্মার্ট কার্ড দেবে রাজ্য, আবেদন করতে হবে স্থানীয় প্রশাসনে, ততদিন আধার-ভোটার কার্ডকেও মান্যতা

আগামী ১ জুন থেকে সরকারি বাসে মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পেতে চলেছেন। দূরপাল্লার সরকারি বাসেও মিলবে এই সুবিধা।

ফ্রি বাসযাত্রার জন্য মহিলাদের স্মার্ট কার্ড দেবে রাজ্য, আবেদন করতে হবে স্থানীয় প্রশাসনে, ততদিন আধার-ভোটার কার্ডকেও মান্যতা
  • ২৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ১ জুন থেকে সরকারি বাসে মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পেতে চলেছেন। দূরপাল্লার সরকারি বাসেও মিলবে এই সুবিধা। আর তার জন্য বিজেপি সরকার রাজ্যের মহিলাদের সচিত্র ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড দেবে। সেই কার্ডে থাকবে কিউআর কোড। কার্ডটি বাসের কন্ডাকটরকে দেখাতে হবে। মেশিনে তখন সেই স্মার্ট কার্ড ও মহিলা যাত্রীর তথ্য ভেসে উঠবে। সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসবে ‘শূন্য ভাড়ার’ টিকিট। সংশ্লিষ্ট মহিলা যাত্রীকে সেই টিকিট দেওয়া হবে। টিকিটে যাত্রা শুরুর ও গন্তব্যস্থল লেখা থাকবে। এর ফলে মহিলা যাত্রীদের মোট সংখ্যার একটা হিসাব থাকবে পরিবহণ দপ্তরের কাছে। বিভিন্ন পরিবহণ নিগম মহিলা যাত্রী খাতে ভাড়া বাবদ কত টাকা খরচ করছে, তার সুস্পষ্ট হিসাবও থাকবে সরকারের হাতে। রাজ্য ভরতুকি হিসাবে ওই টাকা প্রতি মাসে অধীনস্ত নিগমগুলিকে মিটিয়ে দেবে বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার পরিবহণ দপ্তরের প্রধান সচিব সুরেন্দ্র গুপ্তা এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশনামা জারি করেছেন।

Advertisement

পরিবহণ কর্তারা জানাচ্ছেন, ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড তৈরি ও তা বিলি করতে কয়েকমাস লাগবে। এই সুবিধা পেতে ইচ্ছুক মহিলাদের এসডিও, বিডিও বা পুর-কমিশনারের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে জুড়ে দিতে হবে একটি সরকারি নথি। আধার কার্ড, ভোটার (এপিক) কার্ড, গ্রাম রোজগার গ্যারান্টি কার্ড, আয়ুষ্মান ভারত হেলথ কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড, ভারতীয় পাসপোর্ট, সচিত্র পেনশন নথি, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারি চাকুরেদের সচিত্র পরিচয়পত্র, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র ইত্যাদি। এর মধ্যে যে কোনো একটি নথির প্রতিলিপি সহ আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সরকারি আধিকারিকের দপ্তরে আবেদন জমা করতে হবে। আবেদন খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকেই ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হবে। যতদিন এই কার্ড মহিলারা না পাচ্ছেন, ততদিন আধার, ভোটার কার্ড সহ উল্লেখিত সরকারি নথিগুলি বিনা খরচে বাসযাত্রার ছাড়পত্র হিসাবে বিবেচিত হবে।
প্রসঙ্গত, পরিবহণ দপ্তরের অধীনে চলা নিগমগুলি দশকের পর দশক ধরে লোকসানে চলছে। রাজ্য সরকারকে দিয়ে যেতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ভুরতুকি। সেই সঙ্গে গত কয়েকবছরে পাল্লা দিয়ে কমেছে বাসের সংখ্যা। প্রায় এক যুগ হল, সরকারি বাসের ভাড়া বাড়েনি। সব মিলিয়ে সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত লাটে উঠেছে। এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সুস্পষ্ট নীতি একান্ত জরুরি বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। যদিও পরিবহণমন্ত্রী এখনও ঠিক হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে এই দপ্তর দেখাশোনা করছেন। ২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী ছিলেন তিনি। তাঁর নির্দেশে কয়েক হাজার সরকারি বাস পথে নামাতে চলেছে রাজ্য। পাশাপাশি পরিবহণ ক্ষেত্রে এক গুচ্ছ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ