নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ডলারের বিনিময়ে টাকার মূল্যের পতন থামবে না। টাকার ধস অব্যাহত থাকবে মার্চ মাস জুড়ে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এমনই শঙ্কার বার্তা দিল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ইউনিয়ন ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার এক সমীক্ষা রিপোর্ট। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক অবস্থা, ভারত থেকে অর্থলগ্নি বিদেশি আর্থিক সংস্থাগুলির প্রত্যাহার করে এবং সর্বোপরি যুদ্ধ—এই তিন ফ্যাক্টরের জেরে বর্তমানে ডলারের বিনিময়ে ভারতীয় মুদ্রার পতন স্বাভাবিক। এবং এই পরিস্থিতির আশু পরিবর্তন হবে না।
ইউনিয়ন ব্যাংকের ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ভারতে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার পর্যাপ্ত। তবু সেই ইতিবাচক খবরও টাকার মূল্যকে নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের মূল্য উত্তরোত্তর বাড়ছে এবং একইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়ছে অশোধিত তেলের দাম। ভারতীয় সংস্থাগুলি মাত্র ১০ দিন আগেই যে অশোধিত তেল ব্যারেল প্রতি ৬৫-৬৭ ডলারে ক্রয় করছিল, যুদ্ধের জেরে তা এখন কিনতে হচ্ছে ১০০ ডলারে। তেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম কোথায় গিয়ে থামবে এখনও জানা নেই। অতএব টাকার নিত্যনতুন সর্বকালীন রেকর্ড পতন হয়েই চলবে। যদি অদূর ভবিষ্যতে অশোধিত তেলের গড় দাম ৮৫ ডলারের উপরেই থেকে যায়, তাহলে টাকার দাম আবার নীচে আসার সম্ভাবনা নেই। ১ ডলারের বিনিময় মূল্য ৯৩ টাকা স্পর্শ করতে চলেছে। সেটি আরও বাড়বে। তাহলে কি যুদ্ধ চললে ১ ডলারের মূল্য ১০০ টাকা হতে চলেছে? রিজার্ভ ব্যাংকও এব্যাপারে সতর্কতার বার্তা দিয়েছে ব্যাংকিং সেক্টরকে।
দেশের অর্থনীতির জন্য প্রবল উদ্বেগজনক একটি বার্তাও রয়েছে ইউনিয়ন ব্যাংকের রিপোর্টে। সেটি হল, বাণিজ্য ঘাটতি। ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম চালিকাশক্তি গোটা পশ্চিম এশিয়া। তা আটকে পড়েছে। টেক্সটাইল, চাল, ওষুধ, কৃষিপণ্য, ইলেকট্রনিক্সসহ একাধিক পণ্য রপ্তানি করা যাচ্ছে না। সুতরাং ভারসাম্য হারাচ্ছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের জন্য বাণিজ্য ঘাটতি জিডিপির ২ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে। বর্তমান অর্থবর্ষে যা ১ শতাংশে আটকে রাখার টার্গেট নিয়েছিল ভারত সরকার। সেই লক্ষ্যমাত্রা কমবেশি পূরণ হওয়ার পথে। কিন্তু আগামী বছর এক ধাক্কায় বেড়ে যাবে বাণিজ্য ঘাটতি। এটা অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক।