নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্যের বিষয়। সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত। এমনকি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ও স্টেট ইউনিভার্সিটির তকমাপ্রাপ্ত। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কাণ্ডে তাই আপাতত কোনোরকম হস্তক্ষেপ করা হবে না। এসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় সামলাতে হবে রাজ্য সরকারকেই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় অবস্থান স্পষ্ট করে শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে একথা জানানো হয়েছে।
গত দু’দিন ধরে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং একাধিক বাম ছাত্র সংগঠনের মধ্যে গোলমালের জেরে নজিরবিহীন তাণ্ডব চলেছে ঐতিহ্যবাহী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর ফলে রাজ্য তথা সারা দেশে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ভূলুণ্ঠিত হয়েছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। এমন প্রেক্ষাপটেই মনে করা হচ্ছিল, যাদবপুর স্টেট ইউনিভার্সিটি হলেও এব্যাপারে কড়া অবস্থান নিতে পারে শিক্ষামন্ত্রক। কিন্তু তা না করে যেভাবে রাজ্যের হাতেই সব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তাতেই প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের মতে, বাংলায় এখন বিজেপি সরকার বলেই কি কেন্দ্র এব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ করতে চাইছে না? যদিও শিক্ষামন্ত্রক সূত্রে এই জল্পনা উড়িয়ে বলা হয়েছে, কোনো রাজ্যের বিষয়ে আগ বাড়িয়ে কেন্দ্র নাক গলালে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। তাই বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বিষয়টি নিয়ে মৌখিকভাবে খোঁজখবর নিয়েছেন।
কেন্দ্র হস্তক্ষেপ না করলেও যাদবপুর কাণ্ডে ইতিমধ্যে নড়েচড়ে বসেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বঙ্গ ব্রিগেডের নেতাকর্মীদের ‘আচরণে’র উপর কড়া নজর রাখছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা। দলের রাজ্য কমিটিকে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে কোনোরকম ‘দাদাগিরি’র বহিঃপ্রকাশ যেন না ঘটে। সেক্ষেত্রে রাজ্যের শাসক দলেরই মুখ পুড়বে। ঘটনাচক্রে সম্প্রতি রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের ‘তৃণমূলি আচরণ’ বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারপরেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কাণ্ডে ‘তাণ্ডব’ চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপিরই এক মহিলা বিধায়ক। এমনকি প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সরকারের এক মন্ত্রী। দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অবশ্য সাফ বুঝিয়ে দিচ্ছে, এই আচরণ অনুমোদিত হচ্ছে না।