নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: সুখবর! পাহাড়ে সার্ধশতবর্ষ প্রাচীন কুইনাইন ফ্যাক্টরি পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। সিঙ্কোনা বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর একথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী বিশাল লাম। এজন্য তিনি আগামী ২৩ তারিখ দার্জিলিংয়ের রংলি রংলিওট ব্লকের সেই বন্ধ বাগান ও কারখানা পরিদর্শন করবেন। এদিকে, কর্মী সংকটে জেরবার রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সিঙ্কোনা বাগান। প্রশাসন সূত্রে খবর, এখানে ফাঁকা ১১০৪টি পদ। তা হলেও বছরে এখান থেকে গুজরাটে সিঙ্কোনা গাছের ছাল রপ্তানি হচ্ছে প্রায় ২০০ মেট্রিক টন।
সিঙ্কোনা বাগান পরিচর্যায় জোর দেওয়া ও কুইনাইন ফ্যাক্টরি সচল করার দাবি বহুদিনের। কিছুদিন আগে নবান্নে এবিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন বাগানের শ্রমিকরা। এরপর মঙ্গলবার মিনি সচিবালয় উত্তরকন্যায় সংশ্লিষ্ট বাগানের ডিরেক্টর স্যামুয়েল রাই ও শ্রমিকদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী বৈঠক করেন। মন্ত্রী বাগান ও কারখানা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
বুধবার মন্ত্রী বলেন, পাহাড় তথা বাংলার অন্যতম গর্বের বিষয় কুইনাইন ফ্যাক্টরি। বিগত তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের অবহেলায় প্রাচীন সেই কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই সরকার সংশ্লিষ্ট কারখানা নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহী। তাই কারখানাটিকে পুনরুজ্জীবিত করা সহ বাগানের সমস্যা মেটানোর প্রস্তাব দেব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। এজন্য ২৩ জুলাই ওই বাগান ও কারখানা পরিদর্শন করব।
দার্জিলিং জেলায় পাহাড়-সমতলে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। সেগুলির মধ্যে চা ও কমলা লেবুর সুনাম বিশ্বজোড়া। এরবাইরে আরএকটি উল্লেখযোগ্য সম্পদ সিঙ্কোনা। এর কদরও সর্বত্র। এই গাছের ছাল থেকে প্রস্তুত হয় মশাবাহিত ম্যালেরিয়া রোগের প্রতিশেধক কুইনাইন। এজন্য পাহাড়ে গড়ে উঠেছিল কুইনাইন ফ্যাক্টরি। দেড়শো বছরের প্রাচীন এই ফ্যাক্টরি এখন অবহেলিত। প্রায় দু’দশক ধরে সেটি বন্ধ।
দার্জিলিং জেলার মংপুতে সিঙ্কোনা বাগান। সেটি রাজ্য সরকারের উদ্যানপালন দপ্তরের অধীনে। প্রশাসন সূত্রে খবর, মংপুতে প্রায় ২৬ হাজার একর জমিতে বিভিন্ন ঔষধি গাছের বাগান রয়েছে। যারমধ্যে সিঙ্কোনা গাছের বাগান রয়েছে ৬৬০০ একর জমিতে। এই চাষ শুরু হয়েছিল ১৮৬২ সালে। এরপর ১৮৭৪ সালে এখানে পাঁচ একর জমিতে গড়ে তোলা হয় কুইনাইন ফ্যাক্টরি। বাগান ও ফ্যাক্টরির জন্য এখানে অফিসার ও কর্মীদের মোট অনুমোদিত পদ ১২৭৪টি। এরমধ্যে শূন্য ১১০৪টি। বর্তমানে কর্মীর সংখ্যা ১৭০ জন। তা সত্ত্বেও এখান থেকে সিঙ্কোনা গাছের ছাল বছরে গুজরাটে রপ্তানি করা হয় প্রায় ২০০ এমটি। তাই ফ্যাক্টরিকে কেন্দ্র করে আধুনিক ওষুধ প্রস্তুত কারখানা তৈরির দাবি রাজ্য সরকারের কাছে জানিয়েছেন কর্মীরা।