‘সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে...’। মাঘ মাসের শুক্ল পঞ্চমীর পুণ্য তিথিতে বিদ্যার দেবীর আরাধনায় মগ্ন আট থেকে আশি। উত্তর শহরতলীর বরানগরের গঙ্গার ধারে প্রাণকৃষ্ণ সাহা লেনে অবস্থিত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমে (কাচের মন্দির) প্রতি বছর আয়োজন করা হয় সরস্বতী পুজো। সারদাদেবীকে মা সরস্বতী রূপে পুজো করা হয়। সেখানে সারদাদেবীর মূর্তির হাতে থাকে সুদৃশ্য এক বীণা। থাকে নানা পুস্তকরাজি। থাকে ছোট্ট একখানি হাঁসও। আশ্রমে দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে এই রীতি। দুর্গাপুজোর সময় দশভূজারূপে পুজো করা হন মা সারদাদেবী। দ্বিভূজা মা হন তখন দশভূজা। তখন মা সারদাদেবীর মূর্তির পিছনে তৈরি করা হয় বিশেষ আটটি হাত। তাতে থাকে নানা অস্ত্রশস্ত্র। পুজোর দিনগুলিতে মাকে বিশেষ বিশেষ বেশে সাজানো হয়ে থাকে। আশ্রমের তরফে দুই সন্ন্যাসী স্বামী সারদাত্মানন্দ ও স্বামী সত্যপ্রকাশানন্দ মহারাজ জানিয়েছেন, এই আশ্রমের সরস্বতী পুজোয় স্কুলের ছাত্রদের পাশাপাশি আশ্রমের ছাত্রাবাসের আবাসিকরা অংশগ্রহণ করে। পুজো দেখতে ভিড় জমান কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলার মানুষজন। পুজোর দিনে মাকে নানা অলঙ্কাকারে সাজানো হয়। আশ্রম প্রতিষ্ঠাতা স্বামী সত্যানন্দদেব এই পুজোর প্রচলন করে ছিলেন। তিনি ছিলেন স্বামী অভেদানন্দের মন্ত্র শিষ্য। আশ্রম সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৫৮ সাল থেকেই বরানগর আশ্রমে সারদা মায়ের এই মূর্তিতেই সরস্বতী পুজো হয়ে আসছে। সারদা মায়ের এই মূর্তিকে ঘিরে রয়েছে নানা ইতিহাস। আশ্রমের মুখপত্র ‘ভাবমুখে’ পত্রিকার ৭৮তম বর্ষের শারদ সংখ্যা ও প্রয়াত আঞ্চলিক ইতিহাসবিদ অজিত সেনের ‘বরানগর আঞ্চলিক ইতিহাস’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ১৯৫৮ সালে স্বামী সদানন্দ এবং ব্রহ্মচারী অমল চৈতন্য সারদা মায়ের এই মৃন্ময়ী মূর্তিটিকে বীরভূমের সিউড়ি থেকে বরানগর আশ্রমে আনেন। তারপর থেকে প্রতিবছর এই মূর্তিতেই সরস্বতী পুজো করা হয়। ১৯৫৫- ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত এই পুজো বীরভূমে সিউড়িতে অনুষ্ঠিত হতো। তারপর থেকে এই পুজো হচ্ছেন বরানগর আশ্রমে।



