‘...এই তো দেবী বাণী! এঁর বীণার মঙ্গলঝঙ্কারে দেশে শিল্পীদের সৌন্দর্যতৃষ্ণা সৃষ্টিমুখী হয়ে উঠেছে। এঁর আশীর্বাদে দিকে দিকে সত্যের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হচ্ছে... শ্বাশ্বত এঁর মহিমা, অক্ষয় এঁর দান— চিরনতুন এঁর বাণী।’ দেবী সরস্বতী প্রসঙ্গে এই বর্ণনা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। জ্ঞান, সৌন্দর্য, প্রেমের দেবী হিসেবে বিশ্বজুড়ে বন্দিত তিনি। উৎসকালে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা তাঁকে জগতে জ্ঞানের সঞ্চার করার কথা বলেন। প্রজাপতি বলেছিলেন, ‘একজন কবির জিহ্বায় অধিষ্ঠান করে তাঁকে দিয়ে কাব্য সৃষ্টি কর।’ কিন্তু কার জিহ্বায় অধিষ্ঠান করবেন দেবী? কীভাবেই বা ছড়িয়ে পড়বে তাঁর মাহাত্ম্য? সেই ব্যক্তির খোঁজ শুরু করেন সরস্বতী। মর্ত্যধামে তমসা নদীর তীরে একদিন মিথুনরত বকযুগলের একটিকে তীর ছুড়ে বধ করে এক নিষাদ। অপর বকটি কাতরভাবে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াতে লাগল। তার বর্ণনাতীত যন্ত্রণা ছুয়ে যাচ্ছিল সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ঋষিকেও। কিন্তু তিনি সেই অভিব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ করবেন কিছুতেই বুঝতে পারলেন না। দেবী বুঝলেন, এই ঋষিই হলেন যোগ্যতম। তাঁর জিহ্বায় অধিষ্ঠান করলেন সরস্বতী। ঋষি বলে উঠলেন, ‘মা নিষাদ প্রতিষ্ঠান্ ত্বমগম শাশ্বতী সমা যৎ ক্রোঞ্চামিথুনাদেকমবধী কামমোহিতম।’ শ্লোক শুনে নিজেই বিশ্বাস করতে পারলেন না ঋষি। তিনি তো একজন দস্যু। দস্যু রত্নাকর। সাধনার বলে ঋষি হয়েছেন। তা বলে তাঁর তো সেই জ্ঞান, প্রজ্ঞা নেই। তাহলে শ্লোক? তিনি বুঝলেন, দেবী সরস্বতীর বর পেয়েই তাঁর মুখ থেকে নির্গত হয়েছিল আদি শ্লোক। ঋষি বাল্মীকি হয়ে উঠলেন মহাপণ্ডিত।



