Bartaman Logo
২০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি জমি দখল ঘিরে দুই পক্ষের বিবাদে চলল গুলি, ধৃত

সরকারি জমি দখল ঘিরে দুই পক্ষের বিবাদে চলল গুলি, ধৃত
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, লালবাগ: সোমবার সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদ থানার গোলাপবাগের লালবাগ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের তুমুল সংঘর্ষ বাধে। গুলিও চলে বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। প্রাণভয়ে ছোটাছুটি করতে থাকেন স্থানীয়রা। ঢিল ছোড়া দূরত্বে লালবাগ মহকুমা হাসপাতাল। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ভর্তি হওয়া রোগীর আত্মীয় পরিজনদের মধ্যেও। খবর পেয়ে মুর্শিদাবাদ থানার বিশাল পুলিস বাহিনী চলে আসে। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোল উদ্ধার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিস সুপার (লালবাগ) রাসপ্রিত সিং বলেন, ওই এলাকায় একটি সরকারি জমির দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিবাদ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যায় দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে রাতেই মনিরুল শেখ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। 
Advertisement
মুর্শিদাবাদ পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাপবাগে লালবাগ বাসস্ট্যান্ড ও দমকল কেন্দ্রের পিছনে রয়েছে প্রায় ১৩ একর সরকারি জমি। বর্তমানে পর্যটন দপ্তরের অধীনে থাকা ওই জমি পূর্বে মুর্শিদাবাদ এস্টেটের ছিল। বেশ কয়েক বছর আগে মুর্শিদাবাদ এস্টেটের পক্ষ থেকে পর্যটন দপ্তরকে হস্তান্তর করা হয়। ওই এলাকার তিন কাঠা সরকারি জমির দখল বিবাদের সূত্রপাত। কয়েকদিন আগে এই বিবাদের জেরে একজনকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। সোমবার সন্ধ্যায় বিবাদমান দুই পক্ষ ফের  সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তাতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, ওইদিন সন্ধ্যায় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চলে। মঙ্গলবার সকালেও ঘটনাস্থল সহ পার্শ্ববর্তী এলাকা বেশ থমথমে ছিল। এলাকাবাসী থেকে ব্যবসায়ীরা কেউ সোমবারের ঘটনায় মুখ খুলতে চাননি। তবে এদিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ লালবাগ মহকুমা শাসক বনমালি রায়, লালবাগ মহকুমা পুলিস আধিকারিক আকুলকর রাকেশ মহাদেব, মুর্শিদাবাদ এস্টেট ম্যানেজার বিপ্লব সরকার ওই সরকারি জমিটি পরিদর্শন করেন। লালবাগ মহকুমা শাসক বনমালি রায় বলেন, পর্যটন দপ্তরের ওই জায়গায় বেশ কিছু মানুষ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। বিষয়টি দেখতে পরিদর্শনে এসেছি। ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরকে জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমানা নির্ধারনের কাজ সম্পন্ন হলেই সরকারি জমি দখল মুক্ত করা হবে। মুর্শিদাবাদ এস্টেট ম্যানেজার বিপ্লব সরকার বলেন, সরকারি জমি যারা দখল করে রেখেছে, তারা কেউই এখানকার নয়। দখলদারদের দেখতে পাওয়া যায় না। মুর্শিদাবাদ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, প্রশাসন ও শাসকদলের মদতে তৃণমূলের কিছু নেতা সরকারি জমি বিক্রি করছেন। তৃণমূলের পুরসভা প্ল্যান পাস করিয়ে সরকারি জমিতে বাড়ি, হোটেল বানিয়েছেন। সেইরকম একটি জমির বিক্রি ও ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়েই নিজেদের মধ্যে ঝামেলায় গুলি চলেছে। আসলে, মুর্শিদাবাদ শহর ধীরে ধীরে বোমা ও পিস্তলের কারখানা হয়ে উঠছে। কংগ্রেসের লালবাগ টাউন সভাপতি অর্ণব রায় বলেন, তৃণমূলের পরিবারের মধ্যে ঝামেলায় গুলি চলেছে। তৃণমূলের নেতাদের মদতে লালবাগ শহর দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে। একজন শহরবাসী হিসেবে খুব আতঙ্কিত। মুর্শিদাবাদ লোকসভার সাংসদ আবু তাহের খান বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। আসলে, কোনও ঘটনা হলেই বিরোধীরা তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ