নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সংসারের নানা যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য আত্মহত্যা করতে বেরিয়ে মহেন্দ্রনাথ গুপ্ত পেলেন জীবনের নতুন দিশা। ভাগনে সিধুর হাত ধরে পৌঁছলেন দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে। মহেন্দ্রনাথের জীবনে শুরু হল একটি নতুন অধ্যায়। এই উত্তরণের সোনালি ফসল শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত।
উত্তর কলকাতার ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি অঞ্চলে গুরুপ্রসাদ চৌধুরী লেনে ছোট্ট দোতলা বাড়িতে মহেন্দ্রনাথ রচনা করলেন এক কালজয়ী গ্রন্থ। পেশায় স্কুলশিক্ষক মহেন্দ্রনাথ শ্রীরামকৃষ্ণের স্নেহের ‘মাস্টার’। পরবর্তীকালে জগৎজুড়ে তিনি জনপ্রিয় হলেন ‘মাস্টারমশায়’ নামে। ছোটোবেলা থেকেই ডায়েরি লেখার অভ্যাস ছিল তাঁর। সেইমতো শ্রীরামকৃষ্ণসান্নিধ্যের কিছু মুহূর্তও তিনি লিখে রাখতেন। সেই ডায়েরির সূত্রে মুদ্রিত গ্রন্থের নামেই পরবর্তীকালে বাড়ির নাম হয় ‘কথামৃত ভবন’। বর্তমানে সেটি রামকৃষ্ণ সংঘের একটি শাখা কেন্দ্র। সেখানেই গড়ে উঠেছে একটি অমূল্য সংগ্রহশালা—শ্রীরামকৃষ্ণ মহেন্দ্রনাথ মিউজিয়াম। আজ শুক্রবার স্বামীজির শিকাগো বিজয়ের দিনে সেটির উদ্বোধন হচ্ছে।
রামকৃষ্ণ মঠের অধ্যক্ষ স্বামী গৌতমানন্দ ভার্চুয়াল মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন। সংগ্রহশালার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মঠের সহকারী সাধারণ সম্পাদক স্বামী বোধসারানন্দ। মাস্টারমশায়ের ব্যবহৃত পার্কার পেন, কালির দোয়াত, রোম্যাঁ রোলাঁর চিঠি, বিদ্যাসাগরের দেওয়া প্রশংসাপত্র, সারদা মায়ের হাতের ছাপ এবং কিছু দুষ্প্রাপ্য ছবি। আর থাকছে গিরিশ ঘোষসহ বহু রামকৃষ্ণ পার্ষদের চিঠিপত্র। এখানেই বসছে শিল্পী সুবিমল দাসের তৈরি মহেন্দ্রনাথের সিলিকনের মূর্তি। রামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িতেই মাস্টারমশায়ের আকাঙ্ক্ষা অনুসারে মা সারদা নিজ হাতে চণ্ডীর ঘট স্থাপন করেন। সেটি নিয়মিত পূজিত হচ্ছে আজও।
কথামৃত ভবনের পরতে পরতে ইতিহাস! দুই কক্ষবিশিষ্ট নতুন মিউজিয়াম সেই ইতিহাসকেই নতুন প্রজন্মের কাছে আরও আকর্ষণীয়ভাবে পৌঁছে দেবে। জানিয়েছেন এই কেন্দ্রের সম্পাদক স্বামী সিদ্ধেশ্বরানন্দ।