


আবু ধাবি: এখনও পর্যন্ত এশিয়া কাপের আসরে ভারত ছাড়া আর কোনও দল ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি। কিছুটা আশা জাগিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু সুপার ফোরে প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের কাছে হেরে বিপাকে দ্বীপরাষ্ট্র। একইভাবে ভারতের কাছে পাকিস্তানের হারের ধারাও অব্যাহত। গ্রুপে পাকিস্তানকে দুরমুশ করেছিল টিম ইন্ডিয়া। সুপার ফোরের লড়াইয়ে সলমন আগারা শুরুতে আস্ফালন দেখালেও, মাথা নীচু করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁদের। শুধু ভারতের কাছে হারের লজ্জা নয়, টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা চেপে বসেছে পাক শিবিরে। স্বস্তিতে নেই শ্রীলঙ্কাও। এই আবহে মঙ্গলবার আবু ধাবিতে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলছেন, বাবর আজম-রিজওয়ানের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের প্রয়োজন ছিল এই বড় আসরে। অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষাই বিপদে ফেলেছে পাকিস্তানকে। তবে চাপের মুখে পাকিস্তানের ভেঙে পড়ার রোগ নতুন নয়। শ্রীলঙ্কার বাধা টপকানো সহজ হবে না আগাদের পক্ষে। পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা দুই ওপেনার ফখর জামান এবং সাহিবজাদা ফারহান। দু’জনেই ছন্দে আছেন। তবে নামের প্রতি সুবিচারে ব্যর্থ সায়িম আয়ুব। দক্ষ অলরাউন্ডার হয়ে ওঠার গুণ রয়েছে তাঁর মধ্যে। তবে ব্যাটিংয়ে আরও মনোযোগী হতে হবে সায়িমকে।
পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে মহম্মদ নওয়াজ, ক্যাপ্টেন সলমন আগা, ফায়িম আশরফ ও হুসেন তালাতকে খেলানো হচ্ছে। তবে টি-২০ ফরম্যাটে এই চার ব্যাটারের পারফরম্যান্সে তেমন ঝাঁঝ চোখে পড়ছে না। ভারতের বিরুদ্ধে শুরুটা ভালো হলেও তাই পাকিস্তানের স্কোর দুশোর আশেপাশে পৌঁছয়নি। পাকিস্তানের বোলিং ছন্নছাড়া। শাহিন আফ্রিদি ফর্ম হাতড়াচ্ছেন। তুলনায় হ্যারিস রউফ কিছুটা উজ্জ্বল। কন্ডিশনকে কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। স্পিন বিভাগটা বড়ই দুর্বল। মরুদেশের পিচে বল টার্ন করছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না পাকিস্তান।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংও বেশ শক্তিশালী। নিশাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস, কামিল মিশারা, কুশল পেরেরা, শানাকা ও আশালঙ্কা বড় ইনিংস খেলতে সক্ষম। তবে শুরুটা ভালো না হলে চাপে পড়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। লম্বা ব্যাটিং লাইন-আপ। তার সুবিধা পেতে পারে দ্বীপরাষ্ট্রটি। তবে শ্রীলঙ্কার বোলিং পাকিস্তানের চেয়ে ভালো। বিশেষ করে স্পিন বিভাগ অনেক শক্তিশালী। হাসারাঙ্গার সঙ্গে খেলানো হচ্ছে সদ্য পিতৃহারা ওয়েল্লালাগেকে। প্রয়োজনে এই ম্যাচে থিকসানাকেও খেলানো হতে পারে।
ম্যাচ শুরু ভারতীয় সময় রাত ৮টায়। সরাসরি সম্প্রচার সোনি স্পোর্টসে।