নিজস্ব প্রতিনিধি, আউশগ্রাম: পিচ রাস্তার দু’পাশে ঘন জঙ্গল। পাখিদের কলতান। মৃদু-মন্দ হাওয়ায় দুলছে সবুজবন। মনে ভিতর উঁকি মারবে এক দারুণ এক প্রশান্তি। একটু অবসর নিয়ে জঙ্গলের পথ ধরেই পৌঁছে যাওয়া যায় কালিকাপুর রাজবাড়িতে। প্রাচীন এবং আধুনিকতার নিবিড় মেলবন্ধন রয়েছে এখানে। প্রাসাদের উঠোনে দাঁড়ালে মনে পড়ে যাবে, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের নানা কালজয়ী সিনেমার দৃশ্য। কারণ, এখানেই তো শ্যুটিং হয়েছে ওইসব বাংলা সিনেমার। সেখান থেকে যাওয়া যেতে পারে জলটুঙ্গিতে। জলের মাঝে যেন প্রাসাদ। শাল, পিয়ালের জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে দেখা মিলতে পারে ময়ূরের নৃত্য। বর্ধমান থেকে দেড় ঘন্টার মধ্যেই গাড়িতে পৌঁছানো যায় মন মাতাল করা আউশগ্রামের এই পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে। পুজোর ছুটিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখছে জঙ্গলমহল।
স্থানীয়রা বলছেন, বোলপুর ঘুরতে এসেও পুজোর দিনগুলিতে পর্যটকরা এখানে আসতে পারেন। যাঁরা পুজোর দিনগুলিতে শহরের কোলাহল পছন্দ করেন না, তাঁদের কাছে আদর্শ জায়গা। গোধূলি বেলায় জলটুঙির রূপ বদলে যায়। পড়ন্ত বিকেলে অস্তরাগের সঙ্গে খেলা করে শান্ত জলরাশি। হাওয়া মহল ধীরে ধীরে প্রজ্বলিত হয়ে ওঠে। বর্ধমানের মহারাজা কীর্তিচন্দ্র রাজস্থান, সিন্ধু ও পাঞ্জাবের হৃদের মাঝখানে থাকা ছত্রির আদলে তৈরি করেছিলেন জলটুঙ্গি। আউশগ্রামে রয়েছে ডোকরা গ্রাম। রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার প্রাপ্ত শিল্পিরা এখানে পসরা সাজিয়ে রয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী কলিতা মাজি বলেন, ‘আউশগ্রামে পর্যটনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার পরিবেশ সম্পুর্ণ আলাদা।’ তিনি পুজোর ছুটিতে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আউশগ্রাম আসার।
বর্ধমান থেকে গুসকরা হয়ে আসা যায় আউশগ্রামের জঙ্গলে। এছাড়া গলসি থেকে অভিরামপুর হয়েও জঙ্গলে প্রবেশ করা যায়। ভাল্কিমাচানে রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্য। এখানে জঙ্গলের মাঝে একবার প্রবেশ করলে কখন যে সময় কেটে যাবে, তা টের পাওয়া যায় না। এলাকার বাসিন্দা জিতেন সোরেন বলেন, ‘পর্যটকদের এখানে থাকার ব্যবস্থা নেই। ভাল্কিমাচানে একটি গেষ্ট হাউস থাকলেও পঞ্চায়েত সমিতি সেটির পরিকাঠামো উন্নতি করেনি। এখানে ঘুরতে এলে পর্যটকদের হয় বোলপুর না হলে গুসকরায় থাকতে হবে। এখন এই এলাকা শ্যুটিং স্পট হয়ে উঠেছে। সব সময় শ্যুটিং চলছে। এছাড়া আর কিছু হচ্ছে না।’ এলাকার আর এক বাসিন্দা প্রভাত দাস বলেন, ‘আউশগ্রামের পর্যটনকেন্দ্র গুলি নিয়ে সেভাবে প্রচার হয়নি। পূর্ব বর্ধমানেরও বহু বাসিন্দা এখানকার সৌন্দর্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। ভালোভাবে প্রচার করা হলে এখানেও পর্যটকদের ঢল নামত। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অর্থনীতির বিকাশ ঘটত। পুজোর সময় এখানকার পরিবেশ যেন আরও রঙিন হয়ে ওঠে। দূর থেকে ভেসে আসে ঢাকের আওয়াজ। কালিকাপুর রাজবাড়িতে চলে দুর্গা সাধনা। শুদ্ধ চণ্ডীস্তোত্র পাঠে দুলে ওঠে গোটা জঙ্গল। সে এক আলাদা আধ্যাত্মিক অনুভূতি! শিরা-উপশিরায় শিহরণ তুলবেই।