অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: অনেকটা ব্যাকফুটে থেকেই কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় ভোট ময়দানে নামছে ঘাসফুল শিবির। কারণ বিগত কয়েকটি নির্বাচনে এই আসনে হারের মুখ দেখতে হয়েছে তৃণমূলকে। তাই এবার বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী পদের দাবিদারের সংখ্যাও অনেক কম। তবে এই বিধানসভার জন্য বড় চমক রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, নির্বাচনের প্রাক্কালে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পলাশীপাড়া বিধানসভায় তৃণমূলের টিকিট পাওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা। সেই জায়গায় হারের আশঙ্কায় কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় টিকিটের জন্য সেভাবে কেউ এগিয়ে আসেনি। তবে দলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার জন্য কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের কাউকে টিকিট দেওয়া হতে পারে। ছাব্বিশে বিজেপির এই গড় পুনরুদ্ধারে মরিয়া চেষ্টা চালাবে তৃণমূল।
বিগত কয়েক বছরে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা বিজেপির দুর্গে পরিণত হয়েছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ৩৫ হাজার এবং চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে ৫৩ হাজার ভোটে তৃণমূলকে পিছনে ফেলেছে বিজেপি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, একসময় তৃণমূল দখলে থাকা কৃষ্ণনগর পুরসভাতেও চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ৩০ হাজার ভোটে বিজেপির থেকে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। তার উপর কৃষ্ণনগর শহরে তৃণমূল কাউন্সিলারদের কোন্দলের জেরে দীর্ঘ সময় নাগরিক পরিষেবা বন্ধ রাখাও নির্বাচনি লড়াইয়ে তৃণমূলকে অনেকটাই পিছনে ঠেলে দিয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও পুরসভার বোর্ড ভেঙে দিয়ে পুরো প্রশাসক বসিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করেছে রাজ্য সরকার। বিগত কয়েক মাসে শহরের ছবিও অনেকটা বদলেছে। কিন্তু, সেটা ভোট বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে সেই দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
নদীয়া উত্তরের ৮টি বিধানসভার মধ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পলাশীপাড়া বিধানসভাতেই টিকিটের দাবিদার সবচেয়ে বেশি। কারণ তৃণমূলের কাছে পলাশীপাড়া তুলনামূলক ‘সেফ’ সিট। কিন্তু, অন্যদিকে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় তৃণমূলের নেতৃত্বদের টিকিটের জন্য দাবি করতে দেখা যাচ্ছে না। তাই নদীয়া জেলায় কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা ভাবাচ্ছে ঘাসফুল শিবিরকে। স্বাভাবিকভাবেই এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থীর ‘আকাল’ থাকার কারণে, বড় চমক থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কোনো সেলিব্রেটিকেও প্রার্থী করা হতে পারে। আবার এই কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশু রায়ের নামও ভাসছে। সবমিলিয়ে এই কেন্দ্রে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী নিয়ে জল্পনার শেষ নেই।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় তৃণমূল কাকে প্রার্থী করবে সেসব নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই। মানুষ পদ্মফুল প্রতীক দেখে ভোট দেবে। তার উপর কৃষ্ণনগর শহরের তৃণমূল কাউন্সিলাররা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব করে মানুষকে যেভাবে হয়রানি করেছেন তার জবাব আসন্ন নির্বাচনে ভোট বাক্সে পড়বে।
কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার অন্তর্গত কৃষ্ণনগর-১ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুশান্ত মণ্ডল বলেন, রাজ্যের সব আসনে আমাদের একজনই প্রার্থী। তিনি হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষ উন্নয়নকে দেখে ভোট দেবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সরকারি পরিষেবা মানুষের ঘরে ঘরে পোঁছে দিয়েছে।
কৃষ্ণনগর শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুমাল্য ঘোষ বলেন, আমাদের শাখা সংগঠন ও শহর সংগঠন খুবই মজবুত। সাধারণ মানুষ এসআইআর নিয়ে বিরক্ত। তাতে শহরের নাগরিকবৃন্দ আর বিজেপিকে চাইছে না। দল যাকে প্রার্থী করবে তাঁকেই আমরা জেতাব।