নিউ জার্সি: স্পেনের তিকি-তাকার কাছে ম্লান মেসির জাদু! রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই নিউ জার্সির গ্যালারিতে লাল সমুদ্র। স্প্যানিশ অনুরাগীদের গর্জনে তখন কান পাতা দায়। বিশ্বজয়ের আনন্দে ফেরান তোরেস, লামিনে ইয়ামাল, পেড্রি, রড্রিরাও পাগলপারা। সারা মাঠ ছুটে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। তবে আর্জেন্তিনার বেঞ্চের সামনে এসে থমকে গেলেন লামিনে। লায়োনেল মেসি মুখ ঢেকে বসে রয়েছেন। আইডলকে এভাবে দেখে হয়তো খারাপ লাগছিল স্প্যানিশ তরুণ তুর্কির। বাঁ পায়ের জাদুকরকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিলেন তিনি। মেসিও পালটা অভিনন্দন জানালেন লামিনেকে। সঙ্গে আরও কিছু বললেন। হয়তো বলছিলেন, ‘অনেক দূর যাবে তুমি।’
মেগা আসরের অভিষেকেই বিশ্বজয়। মুখের কথা নয় কিন্তু। তবে লামিনে করে দেখালেন। পুনরাবৃত্তি ঘটালেন জাভি-ইনিয়েস্তাদের পরপর ইউরো-বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি। ফুয়েন্তের স্পেন তারুণ্যের জয়গানে বাজিমাত করল। আর এই স্প্যানিশ আর্মাডার সম্পদ টিমগেম। মিক্সড জোনে লামিন বলছিলেন, ‘সেমি-ফাইনালের আগে বলেছিলাম। এই স্পেনকে ভয় পায় ফ্রান্স। তখন অনেকে ঔদ্ধত্য বলেছিল। তবে আমরা পাত্তা দিই না। শেষ চারের লড়াইয়ে ফ্রান্সকে বশ মানিয়েছিলাম। তবে ফাইনালে আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে লড়াইটা সহজ ছিল না। ওরা গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তার উপর তাঁদের দলে মেসি নামক একজন ছিলেন। তবে ফুটবল দেবতা সহায় ছিলেন। শেষ হাসি হাসতে পেরে আপ্লুত।’ মেসি প্রসঙ্গে আরও প্রশ্ন উঠতে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন। তাঁর সংযোজন, ‘আমার চোখে মেসিই সেরা। ওকে দেখেই বড় হয়েছি আমরা। তাই লিও’র বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলাটা আমার কাছে গর্বের। এবং তাতে জিতে যে কী অনুভূতি হচ্ছে বলে বোঝাতে পারব না। এখন শুধুই পার্টি টাইম।’ কথা শেষ হওয়ার আগেই সতীর্থ কুবার্সি, ফেরানরা বড়ো স্পিকার নিয়ে হাজির। ‘ডেসপাসিতো..’ গানে কোমর দোলাতে দোলাতে তাঁরা ড্রেসিং-রুমে পথে হাঁটা দিলেন।
লামিনের পাশাপাশি উল্লেখ করতে হবে রড্রির কথাও। পুরো বিশ্বকাপে স্পেনের মাঝমাঠের নিউক্লিয়াস ছিলেন তিনি। ফাইনালেও মেসি-আলভারেজদের রুখে স্পেনকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছেন। রড্রির কথায়, ‘কী যে অনুভূতি হচ্ছে, বোঝানোর ভাষা নেই। দলের প্রতিটি ফুটবলারের জন্য গর্বিত। মেসির আর্জেন্তিনাকে হারানো সহজ ব্যাপার ছিল না। তবে আমরা পেরেছি।’ আপ্লুত কোচ লুই ডে লা ফুয়েন্তেও। তিনি বলছিলেন, ‘সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে খুবই খুশি। ছেলেদের জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। এই বিশ্বজয়ের গল্প ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।’