নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কয়েকশো মিটার দূরে সংসদ। দু’ এক কিলোমিটারের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির দপ্তর। দিল্লিতে বর্ষাও প্রবেশ করেছে। কিন্তু উৎসাহ, উদ্দীপনা,আবেগের তুলনায় যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশকে অনেক বেশি গ্রাস করেছে হতাশা ও আশঙ্কা। হতাশার কারণ, ১৫ বছর আগে আন্না হাজারের অনশন, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকার বিরোধী আন্দোলন জনজোয়ারের ঝড় তুলেছিল। ভিড় ও প্রচারের নিরিখে তার ধারেকাছেও নেই নতুন আন্দোলনে। আর আশঙ্কার কারণ লাদাখের সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের অনশন ১৬ তম দিনে পড়লেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনও উচচবাচ্য করা হচ্ছে না। দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দ থেকে কোনও বার্তা আসছে না আন্দোলনকারীদের কাছে।
হাজারের অনশন ভাঙাতে দফায় দফায় এসেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায় থেকে পি চিদম্বরমরা। এদিকে, সোনামের শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট অবনতি ঘটছে। নিটসহ একঝাঁক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ, শিক্ষাক্ষেত্রের সংস্কার, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মতো দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। বিপুল অনলাইন প্রচার দেখে মনে করা হচ্ছিল, নতুন ভারতের নতুন আন্দোলনের নাম ককরোচ জনতা পার্টি। কেজরিওয়ালের ভূমিকায় অবতীর্ণ অভিজিৎ দীপকে। আর ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত সোনাম ওয়াংচুকই হতে চলেছেন নয়া আন্না হাজারে। এই প্রতিটি শর্তই পূরণ হয়েছে এই আন্দোলনে। কিন্তু প্রত্যাশিত জনজোয়ার অথবা সরকারপক্ষের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। যা নিয়ে যথেষ্ট শংকা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক তকমা দিতে না চাওয়া কংগ্রেস অথবা ইন্ডিয়া মঞ্চের কোনও বিজেপি বিরোধী দলও ধরনা মঞ্চে আসছে না। একমাত্র তূণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মিত্র সম্প্রতি এসেছিলেন। সরকারও উদাসীন এবং বিরোধী জোটও দূরত্ব বজায় রাখছে- এরকম নির্লিপ্তির উদাহরণ কোনও গণআন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেখা যায়নি। নীরবতা ভেঙে সোমবার শিবসেনা (উদ্ধব) সুপ্রিমো উদ্ধব থ্যাকারে সোনামের শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে সব দলের কাছে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে সরকারের উপর চাপ তৈরির দাবিও তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে, সোনামের অবস্থার অবনতি হলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বিগ্ন দিল্লি পুলিশ। তাই আরও পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনও বার্তা আসেনি।