Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

ছ’মাস পর জেলমুক্তি সোনামের

গণবিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়ে আটক হয়েছিলেন। ৬ মাস বন্দি ছিলেন জেলে। অবশেষে মুক্তি পেলেন লাদাখের পরিবেশ কর্মী সোনাম ওয়াংচুক। শনিবার মোদি সরকার জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ)-এ আর সোনামকে আটকে রাখা হবে না

ছ’মাস পর জেলমুক্তি সোনামের
  • ১৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: গণবিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়ে আটক হয়েছিলেন। ৬ মাস বন্দি ছিলেন জেলে। অবশেষে মুক্তি পেলেন লাদাখের পরিবেশ কর্মী সোনাম ওয়াংচুক। শনিবার মোদি সরকার জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ)-এ আর সোনামকে আটকে রাখা হবে না। তাঁকে আটক রাখার নির্দেশ প্রত্যাহার করা হল। সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলার মধ্যেই কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিনই  রাজস্থানের যোধপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে রিয়েল লাইফের ‘রাঞ্চো’কে মুক্তি দেওয়া হয়। 

Advertisement

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা ও ষষ্ঠ তপশিলে অন্তর্ভুক্তি— জোড়া দাবিতে ১৫ দিন অনশন করেছিলেন সোনাম। সেইসময় এই ইস্যুতে লাদাখের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এই  হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগেই গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর এনএসএ-র অধীনে আটক করা হয় সোনামকে। সরকারের দাবি, লাদাখের নেতৃত্বের সঙ্গে সরকারের আলোচনা প্রক্রিয়া চলা সত্ত্বেও জনরোষ তৈরির জন্য উসকানিমূলক ভাষণ দিয়েছেন সোনাম। অনশন কর্মসূচি থেকে আরব বসন্ত ও নেপালের জেন জি আন্দোলনের উদাহরণ টেনে হিংসায় প্ররোচনা দিয়েছেন। তাই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁকে আটক করা প্রয়োজন। এছাড়াও  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অভিযোগ ছিল, ২০১০ সালের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (এফসিআরএ) লঙ্ঘন করেছে ওয়াংচুকের সংস্থা। এদিন বলা হয়েছে, শান্তি সুনিশ্চিত করা  এবং বন্‌ধ ও বিক্ষোভের পরিবেশের অবসানের জন্য তাঁর মুক্তি প্রয়োজন। 
গ্রেপ্তারির পর লাদাখ থেকে যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে আনা হয় সোনামকে। এই পরিবেশকর্মীর গ্রেপ্তারি নিয়ে বিভিন্ন মহলে শোরগোল বাঁধে। মানবাধিকার সংগঠন, পরিবেশ আন্দোলনকারীরা সোনামের মুক্তির দাবি জানায়। গ্রেপ্তারিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন সোনামের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। জেলে থাকাকালীন সোনামের স্বাস্থ্যের অবনতিও দেখা দেয়।  অবশেষে প্রায় ১৭০ দিন জেলে থাকার পর কেন্দ্র এনএসএ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল। যোধপুরের রতনাডা থানার পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার দুপুর প্রায় দেড়টা নাগাদ সোনামকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন সোনামের স্ত্রী গীতাঞ্জলি। মুক্তির খবর মিলতেই সোনামের সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। 
সোনামের মুক্তির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এক্স হ্যান্ডলে  দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘একজন বিজ্ঞানী তথা পরিবেশকর্মী যিনি তাঁর সারাজীবন দেশের কাজে উৎসর্গ করেছেন, তাঁকে কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হল। এটা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, দেশেরও ক্ষতি। এই স্বৈরাচারকে অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’ সিদ্ধান্তকে ‘ইতিবাচক’ জানিয়ে লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনয় কুমার সাক্সেনা বলেন, ‘এর ফলে এলাকায় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারষ্পরিক আস্থা ফিরবে।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ