


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চাপে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশে আট বছরের সন্তানকে নিয়ে সোনালি বিবি বাংলাদেশ থেকে বীরভূমে ফিরেছেন ঠিকই। তবে তাঁর স্বামী এখনও বাংলাদেশে আটক। তাই বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে মামলা উঠতেই দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় সরকার এ ব্যাপারে কী করছে? যদিও এদিন শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা উপস্থিত ছিলেন না। তাই হোলির পর মামলার ফের শুনানি হবে। বাংলাভাষী হওয়ায় অন্তসত্ত্বা সোনালি বিবিকে স্বামী সহ জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল মোদি সরকার। দিল্লি থেকে তাঁদের ধরে বাংলাদেশ পাঠানো হয়েছিল। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে কিছুদিন আগে দেশে ফেরেন সোনালি।
তবে স্বামীকে দ্রুত দেশে ফেরাতে চান তিনি। তাই এদিন তাঁর হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে। তাঁর কাছে প্রধান বিচারপতি জানতে চান, (সোনালি বিবির) স্বামী কি নিরাপদে আছেন? জবাবে হেগড়ে জানেন, আপাতভাবে নিরাপদে ঠিকই। তবে বাংলাতেই ফেরানো হোক। প্রয়োজনে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কোনো এলাকায় থাকার ব্যবস্থা করা হোক, যাতে দরকার পড়লে সেদেশের আদালতে শুনানিতে হাজিরা দেওয়া সম্ভব হয়। আদালত জানিয়েছে, এ ব্যাপারে কেন্দ্র কী করছে তা জানাক। আগামীদিনের শুনানিতেই তা স্পষ্ট হবে।
অন্যদিকে, কামারহাটির এক সময়ের ত্রাস বলেই পরিচিত জয়ন্ত সিংয়ের জামিন মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনার পর উদ্যোগী হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগে এই মামলায় রাজ্য জামিনের বিরোধিতা করেনি। তাই সুপ্রিম কোর্টে জয়ন্তের জামিনের বিরোধিতা করেন নিগৃহীত অরিত্র ঘোষ। তারই শুনানিতে রাজ্যকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই মতো বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে রাজ্য পুলিশের ডিজি’কে ভার্চুয়াল হাজিরাও দিতে হয়েছে। অরিত্রর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী শাম্ব নন্দী। রাজ্য সরকার এখন জয়ন্তর জামিনের বিরোধিতা করে মামলা করে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এবার থেকে এ ধরনের কুখ্যাতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আরও উদ্যোগী হবে রাজ্য পুলিশ। আগামী ১৭ মার্চ পরবর্তী শুনানি হবে।