Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সেলাইয়ের কাজ করে পড়িয়েছেন মা, উচ্চমাধ্যমিকে নজরকাড়া ফল করে তাক লাগালেন নবদ্বীপের সোনালি

বড় মেয়ে তখন ক্লাস নাইনে পড়ে। ছোট মেয়ে সবে ক্লাস ওয়ানে। এমন সময়ে আচমকাই মিতালি হালদারের স্বামীর মৃত্যু হয়। স্বামীর রোজগারেই সংসার চলত।

সেলাইয়ের কাজ করে পড়িয়েছেন মা, উচ্চমাধ্যমিকে নজরকাড়া ফল করে তাক লাগালেন নবদ্বীপের সোনালি
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: বড় মেয়ে তখন ক্লাস নাইনে পড়ে। ছোট মেয়ে সবে ক্লাস ওয়ানে। এমন সময়ে আচমকাই মিতালি হালদারের স্বামীর মৃত্যু হয়। স্বামীর রোজগারেই সংসার চলত। ফলে দুই নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে আতান্তরে পড়েন নবদ্বীপের ২নম্বর মালোপাড়ার মিতালিদেবী। কিন্তু এতে দমে যাননি তিনি। ব্লাউজ তৈরির কাজ শিখে নেন। সেই কাজ করেই মেয়েদের মানুষ করেছেন। আজ সেই পরিশ্রমের ফসল পেলেন তিনি। বড় মেয়ে এমএ পাশ করে চাকরির চেষ্টা করছেন। ছোট মেয়ে সোনালি এবার ভালো নম্বর পেয়ে উচ্চমাধ্যমিকে সফল হলেন। আবেগতাড়িত কণ্ঠে মিতালিদেবী বলেন, ওরাই আমার পৃথিবী। ওরাই আমার সব।

Advertisement

সোনালি এবার উচ্চমাধ্যমিকে ৪২২নম্বর পেয়েছেন। এত কষ্টের মধ্যে দুই মেয়ের পড়াশোনায় সাফল্যে গর্বিত মা। তিনি বলেন, দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে দুই মেয়েকে মানুষ করছি। পড়াশোনার ফাঁকে মেয়েরাও সেলাইয়ের কাজে সহযোগিতা করে। এখন যে দিনকাল পড়েছে, তাতে মেয়েদের স্বনির্ভর হওয়া খুব প্রয়োজন। আমি চাই, দুই মেয়ে স্বনির্ভর হয়ে সমাজে মাথা তুলে দাঁড়াক।
নবদ্বীপের বঙ্গবাণী ইনস্টিটিউশন ফর গার্লসের ছাত্রী সোনালির বাবা দেবু হালদার পেশায় তাঁতশ্রমিক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই সেলাইয়ের কাজ করে মিতালিদেবী দুই মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। টিনের ছাউনি দেওয়া ভাঙাচোরা দু’টি ছোট ঘরে মা ও দিদি বর্ণালির সঙ্গে থাকেন সোনালি। তিনজন গৃহশিক্ষকের কাছে পড়লেও পরিবারের অভাবের কারণে এক শিক্ষক স্বল্প পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। এবার উচ্চমাধ্যমিকে তিনি বাংলায় ৮৪, ইংরেজিতে ৬১, ভূগোলে ৮০, ইতিহাসে ৮৫, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৮৮ ও এডুকেশনে ৮৫নম্বর পেয়েছেন। সোনালি রাষ্ট্রবিজ্ঞান শিক্ষিকা হতে চান।
সোনালি বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর মা অনেক কষ্টে আমাদের দুই বোনের পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে আমি উচ্চশিক্ষা পেয়ে শিক্ষিকা হতে চাই। কিন্তু আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো স্বপ্ন পূরণ করতে পারব। মিতালিদেবী বলেন, আমি সারাদিনই সেলাইয়ের কাজ করি। বড় মেয়ে বাড়িতে বাচ্চাদের টিউশন পড়ায়। সেই টাকাও আমাকে দিয়ে দেয়। ওদের কোনো কিছুর চাহিদা নেই। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা পারমিতা সিনহা বলেন, সোনালি শুধু উচ্চমাধ্যমিকেই নয়, একাদশ শ্রেণির বিভিন্ন সেমিস্টার পরীক্ষাতেও ভালো ফল করেছিল। খুব ভদ্র, শৃঙ্খলাপরায়ণ ও দায়িত্ববান ছাত্রী সে। স্কুলের বিভিন্ন কাজে নীরবে দায়িত্ব পালন করত। ওর ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হোক, সেই কামনা করি। 


সম্পর্কিত সংবাদ