নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘নির্বাচন কমিশনের দেওয়া এই ভোটার স্লিপ কি রেখে দিতে হবে? আগামী দিনে কোনো কাজে আসবে?’ জবাব আসছে—‘ভোট দিতে যাওয়ার সময় এই স্লিপ জেরক্স করে নিয়ে যাবেন। একটা জমা নিয়ে নেবে। এই ভোটার স্লিপ যত্ন করে ল্যামিনেশন করে রেখে দেওয়া দরকার, পরে এনআরসি বা নতুন করে এসআইআর হলে প্রমাণপত্র হিসেবে কাজে লাগবে।’ নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ভোটার স্লিপ নিয়ে এমনই নানা প্রশ্ন, উত্তর নিয়ে সর্বত্র জল্পনা চলছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে পাড়ার চায়ের দোকান, এসআইআর আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না বাঙালির!
সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে-হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ঘোরাঘুরি করছে ভোটার স্লিপ নিয়ে যাবতীয় কৌতূহল, জিজ্ঞাসা। যদিও নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে, এই ধরনের আলোচনা অহেতুক। এমন কোনো নিয়ম নেই। শুধুমাত্র ভোটারের পরিচয় হিসেবে ওই স্লিপ নিয়ে আসতে হবে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে। সেই স্লিপ দেখে সঠিক ভোটার চিহ্নিত করে তারপর ভোট দেওয়ার অনুমোদন দেয়া হবে। যদিও মানুষের মধ্যে নানা জিজ্ঞাসা, জল্পনা, কৌতুহল কিছুতেই কাটছে না। এই প্রসঙ্গে বাগবাজারের বাসিন্দা গৃহবধূ স্বর্ণালী সেন বলেন, আমার পরিবারের একজন বহরমপুরে থাকেন। তিনিও আমাকে ফোনে জানালেন, জেরক্স করে নিয়ে যেতে। তবে আরও একজনের কাছে শুনেছি, তেমনটা প্রয়োজন নেই। তবে জেরক্স করে রেখে দেব। অন্যদিকে গিরিশ পার্কের বাসিন্দা কৌশিক পাল বলেন, ভোটার স্লিপটা ল্যামিনেশন করে রেখে দিচ্ছি। এবার যেমন মানুষকে হেনস্থা হতে হল, আগামী দিনে ১৫-২০ বছর পর আবার কোনোদিন এসআইআর হলে তখন এটা দেখাতে পারব। তাই রেখে দিলাম।
গিরিশ পার্কের চায়ের ঠেক কিংবা বাগবাজারের গঙ্গার ঘাট, সর্বত্র ভোটার স্লিপ নিয়ে কমবেশি আলোচনা শোনা যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে ঘুরছে ভোটার স্লিপ নিয়ে কী করবেন, এই সংক্রান্ত নানা ধরনের বার্তা। কোথাও কোথাও গ্রাফিক্স সহকারে পোস্ট করা হয়েছে। ভাইরাল হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মিম। বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা, এমন ধরনের ভোটার স্লিপ সচরাচর আগে দেখা যায়নি। অনেক ভোটারের মতে, ভোটের সময় বিভিন্ন পার্টি ভোটার স্লিপ দিয়ে যায়। কিন্তু এভাবে নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনোদিন ভোটার স্লিপ দেওয়া হয়েছে বলে কারও মনে পড়ছে না। তার উপর এসআইআরের জেরে অদ্ভুত নিয়ম কানুনে হেনস্থা হতে হয়েছে নাগরিক মহলের একাংশকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ভোটার স্লিপ নিয়ে কী করনীয়, সেই বিষয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন, কৌতুহল, আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
যদিও নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে, এমন আতঙ্ক অমূলক। ভোটার স্লিপ নিয়ে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যেতে হবে। কোনো কিছু জমা রাখা হবে না। শুধুমাত্র স্লিপ দেখে প্রকৃত ভোটার মিলিয়ে নেবেন নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি। তারপর ভোট দেওয়া যাবে।