বাংলা গান হোক বা হিন্দি। দুই ক্ষেত্রেই সমান জনপ্রিয় সলিল চৌধুরী। উপহার দিয়েছেন একাধিক কালজয়ী সৃষ্টি। গীতিকার ও সুরকার হিসেবে বারবার শ্রোতাদের অবাক করেছেন। কয়েকটি ঘটনার কথা বললেই সঙ্গীতের এই একনিষ্ঠ সাধকের সহজাত প্রতিভার প্রমাণ মিলবে। সত্তরের দশকের শুরুর দিকের সময়। ‘অন্নদাতা’ নামক হিন্দি চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করছেন সলিল চৌধুরী। একটি গানে সুরারোপের পর কিশোর কুমারকে ডেকে পাঠালেন মুম্বইয়ের বাড়িতে। কিশোর আসার পর হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান ধরলেন সলিল। গানের প্রথম স্তবক শেষ হতেই বিছানা থেকে উঠে সোফায় বসলেন কিশোর কুমার। দ্বিতীয় স্তবকের পর লাফ দিয়ে উঠে একটি হাতলওয়ালা চেয়ারে বসলেন। সবকিছুই দেখলেন সলিল। তবুও গান থামল না। পরের অন্তরা শেষ হওয়ামাত্র সুরস্রষ্টার পাশে গিয়ে বসলেন কিশোর। আর গান শেষ হতেই সোজা মাটিতে বসে পড়লেন। সঙ্গে সঙ্গে এই আচরণের কারণ জানতে চাইলেন সলিল। কিশোর কুমার জানালেন, প্রতি অন্তরায় যে গানের স্কেল পাল্টে যাচ্ছে! এহেন পরিস্থিতিতে এমন আচরণ অত্যন্ত স্বাভাবিক। গানটি হল ‘গুজর যায় দিন’। একবার জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়কে গানের রেকর্ডিংয়ের জন্য ডেকে পাঠালেন সলিল। এদিকে পুরো গান তখনও শিল্পীর হাতে আসেনি। স্থায়ী আর প্রথম অন্তরা ছাড়া কিছু নেই। স্টুডিওতে ঢুকে জটিলেশ্বর দেখলেন, যন্ত্রশিল্পীরা প্রস্তুত। শুধু সঙ্গীত পরিচালকের দেখা নেই। এমন সময় সলিল চৌধুরী এসে জানালেন, স্বরলিপি প্রস্তুত। শুধু দ্বিতীয় অন্তরাটা নেই। বলে আবার বেরিয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর দরজা দিয়ে উঁকি দিতেই অবাক জটিলেশ্বর। দেখলেন, সিঁড়িতে কাগজ কলম নিয়ে ভাবনায় মশগুল সলিল চৌধুরী। তবে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য। তারপর ঘরে ঢুকে রিহার্সাল শুরু করার কথা বললেন। সামান্য সময়ের মধ্যেই বাকি গান লেখা শেষ করে ফেলেছিলেন তিনি। এভাবেই অক্লেশে একাধিক সুপারহিট গান তৈরি করেছেন এই কৃতী বাঙালি। আগামী কাল তাঁর জন্মবার্ষিকী।



