নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ধৃত সন্দীপ ঘোষের বাড়িতে বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার কলকাতা পুরসভায় চলল শুনানি। সেখানে মীমাংসার বদলে উল্টে বাঁধল গোল। তৈরি হল বিতর্ক। বিল্ডিং বিভাগে শুনানির নামে চলছে প্রহসন, এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারী। তাঁর দাবি, পুরসভা সন্দীপের বাড়ির বেআইনি অংশ বাঁচাতে চাইছে। যদিও, এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেছে বিল্ডিং বিভাগ।
Advertisement
এদিন পুরসভায় আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বাড়ির বেআইনি অংশ নিয়ে বিল্ডিং বিভাগের হিয়ারিং অফিসারের সামনে শুনানি হয়। স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার অংশুমান সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে চলে এই শুনানি। তাঁর অভিযোগ, বাড়ির ছাদের উপর বেআইনিভাবে নির্মাণকাজ হয়েছে। বাড়ির সামনে ফুটপাতও দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকী বিল্ডিংয়ের উচ্চতা পুরসভার নির্ধারিত মাপ ১২.৫ মিটারের থেকেও বেশি রয়েছে। শুনানি শেষে বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের দেওয়া রিপোর্টে দেখে ক্ষোভ উগড়ে দেন অভিযোগকারী অংশুমান সরকার। তাঁর দাবি, একটি অস্বচ্ছ এবং অসম্পূর্ণ রিপোর্ট বিল্ডিং বিভাগের তরফে শুনানিতে জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বাড়িটির মূল নকশা, ২০১৯ সালে নেওয়া রেগুলারাইজ প্ল্যান নেই। এমনকী বেআইনি অংশ বলে যে রিপোর্টটি জমা দেওয়া হয়েছে, বিল্ডিং বিভাগ সেখানেও নির্দিষ্ট করে বলেনি যে, ওই বাড়ির ঠিক কোন অংশে কতটা বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। অংশুমান সরকারের আরও অভিযোগ, সমস্ত কাগজ হিয়ারিং অফিসারের কাছে পেশ করার কথা। কালার ম্যাপ ও গ্রিড করে দেখানোর কথা কোন অংশটি বৈধ এবং কোন অংশটি অবৈধ। ওই রিপোর্টে কিছুই উল্লেখ নেই। কার্যত বিচারের নামে এখানে প্রহসন হচ্ছে। কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এদিন সন্দীপ ঘোষের আইনজীবী সুমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগপত্র আমরা এতদিন পাইনি। অভিযোগের ভিত্তিতে অক্টোবর মাসে পুরসভার এই তদন্ত নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে একটি মামলা রুজু করেন সন্দীপ।
আজ, বৃহস্পতিবার পুরসভার রিপোর্টে উল্লেখ না থাকা বিভিন্ন তথ্য জানতে চেয়ে ফের চিঠি দেবেন বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী অংশুমান সরকার। পাশাপাশি তিনি বলেন, প্রয়োজনে বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে এই মামলার পার্টি হবেন।
আজ, বৃহস্পতিবার পুরসভার রিপোর্টে উল্লেখ না থাকা বিভিন্ন তথ্য জানতে চেয়ে ফের চিঠি দেবেন বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী অংশুমান সরকার। পাশাপাশি তিনি বলেন, প্রয়োজনে বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে এই মামলার পার্টি হবেন।



