


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ছয় নাবালককে কাজের টোপ দিয়ে ওড়িশায় পাচার করার সময় শালিমার স্টেশনে রেল পুলিশের জালে গ্রেফতার হল চার ব্যক্তি। রবিবার শালিমার স্টেশনে টহলদারি চালানোর সময় ধৃতদের গ্রেফতার করে জিআরপি। ধৃতদের নাম মেজারুল শেখ, কাউসার শেখ, রাকিবুল শেখ ও সাইদুল শেখ। অভিযুক্তরা মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ, সাগরদিঘী ও ঝাড়খণ্ডের পাকুড়ের বাসিন্দা। ওই সমস্ত এলাকা থেকেই নাবালকদের টোপ দিয়ে ওড়িশায় শিশু শ্রমিকের কাজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধৃতদের আদালতে তোলা হলে তাদের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। উদ্ধার হওয়া ছ’জন নাবালককে হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে পুলিশ।
রবিবার সকালে শালিমার স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রুটিন নজরদারি চালাচ্ছিলেন জিআরপির কর্মীরা। ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সি ছ’জন নাবালকের সঙ্গে চার ব্যক্তিকে বসে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। তাদের আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই শিশু শ্রমিক পাচারের বিষয়টি সামনে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, মুর্শিদাবাদ ও ঝাড়খণ্ডের ওই অভিযুক্তরা নাবালকদের ভিনরাজ্যে কাজের টোপ দিত। সাত থেকে আট হাজার টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন বড়ো দোকানে ও নির্মাণ শ্রমিকের কাজ মিলবে বলে টোপ দেওয়া হত। অভিযোগ, এই কায়দায় ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার ওড়িশার অনুগুল ও তালচের এলাকায় নাবালকদের পাচার করেছে এই পাচারকারীরা। রবিবার শালিমার থেকে ওড়িশাগামী ট্রেন ধরার জন্য প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছিল তারা। তার আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে যায়। ধৃতদের কাছ থেকে মিলেছে ট্রেনের জেনারেল টিকিট। শালিমার জিআরপির এক আধিকারিক বলেন, ‘শিশু শ্রমিক ছাড়াও চক্রটি নাবালকদের দিয়ে অন্য কোনও কাজ করাত কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ছয় নাবালককে আপাতত হোমে পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’