চিকিৎসক-সঙ্কটে ধুঁকছে সিউড়ি সদর হাসপাতাল! লাটে পরিষেবা
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: নামে সুপার স্পেশালিটি, কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাবে ধুঁকছে খোদ বীরভূম জেলার সদর শহর সিউড়ির সদর হাসপাতাল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আকাল তো ছিলই, এখন সাধারণ রোগের চিকিৎসক পেতেও কালঘাম ছুটছে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের। হাসপাতালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ চলছে নামমাত্র চিকিৎসক দিয়ে, যার জেরে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে পরিষেবা। এই চরম অব্যবস্থার ফলে সরকারি চিকিৎসার উপর আস্থা হারিয়ে বাধ্য হয়েই নার্সিংহোমের দিকে ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সামান্য জটিলতাতেই রোগীদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজে রেফার করে দায় সারতে বাধ্য হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সুপার প্রকাশচন্দ্র বাগ বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের শীর্ষ স্তরেও জানানো হয়েছে। অপ্রতুলতা থাকলেও আমাদের চিকিৎসকরা সাধ্যমতো নিরলস পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি প্রশাসনের শীর্ষ স্তরেও জানানো হয়েছে।

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে একমাত্র প্রসূতি ও শিশু বিভাগ ছাড়া প্রায় প্রতিটি বিভাগেই চিকিৎসকের অভাব। জেনারেল ডিউটি মেডিক্যাল অফিসার (জিডিএমও) পদে মাত্র দুজন চিকিৎসক রয়েছেন। অথচ তাঁদেরই প্রতিদিনের ইমারজেন্সি, আউটডোর, ব্লাড ব্যাঙ্ক, এমনকি বাইরের রক্তদান শিবিরও সামলাতে হয়! বাধ্য হয়েই অন্য বিভাগের চিকিৎসকদের দিয়ে ইমার্জেন্সি ডিউটি করানো হচ্ছে। চর্মরোগ বিভাগে মাসের পর মাস ধরে রয়েছেন মাত্র একজন চিকিৎসক। তিনি সপ্তাহে তিনদিন আউটডোরে রোগী দেখেন। কিন্তু তিনি ছুটি বা জরুরি কাজে থাকলে রোগীদের ফিরে যেতে হয়।
সবচেয়ে করুণ অবস্থা দন্ত, ইএনটি (নাক-কান-গলা) এবং চক্ষু বিভাগের। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক চিকিৎসককে এই বিভাগগুলি থেকে নিজেদের পছন্দমতো জায়গায় বদলি করা হয়েছে। যেমন, বিধানসভা নির্বাচনের পরই এক বিজেপি ঘনিষ্ঠ দন্ত চিকিৎসককে সিউড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু তাঁর বদলি হিসেবে আজও কেউ আসেননি। ফলে মাত্র দু-তিনজন চিকিৎসক নিয়ে এই বিভাগগুলি চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। একজন চিকিৎসক ছুটিতে গেলেই গোটা বিভাগের পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়।
হাসপাতালে এমনিতেই নিউরোলজিস্ট বা নেফ্রোলজিস্টের মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এই ধরনের বিশেষজ্ঞদের সাধারণত মেডিক্যাল কলেজেই পাওয়া যায়। কিন্তু সিউড়ি হাসপাতালে এখন সার্জেন এবং অ্যানেসথেটিস্টেরও (অজ্ঞান করার চিকিৎসক)তীব্র আকাল। মাত্র তিনজন অ্যানাস্থেসিস্ট দিয়ে চলছে গোটা হাসপাতাল। নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের পালা করে ২৪ ঘণ্টাই উপস্থিত থাকার কথা। এই বিপুল চাপের কারণে কোনওরকমে জরুরি অস্ত্রোপচারগুলি হলেও, আগে থেকে নির্ধারিত বা 'প্ল্যানড' অপারেশনগুলি দিনের পর দিন পিছোচ্ছে।
সমস্যা রয়েছে আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়েও। ধরুন, অস্থি বিভাগে ভর্তি হওয়া এক রোগীর হঠাৎ চর্মরোগ দেখা দিল। কিন্তু সেই চিকিৎসক ছুটিতে বা অন্য জরুরি কাজে ব্যস্তরয়েছেন।ফলে সেই রোগীর চিকিৎসা পিছচ্ছে।অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক না থাকার কারণে রোগীদের বাধ্য হয়ে বর্ধমান মেডিক্যালে রেফার করতে হচ্ছে।