


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গৃহবধূকে ব্ল্যাকমেল করে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগে বোনের বরকে গ্রেফতার করল তিলজলা থানা। ধৃতের নাম মহম্মদ সাবির আলি। পুলিশ সূত্রে খবর, সপ্তাহখানেক আগে তিলজলা থানায় অভিযোগ করেন এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি, স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে। মোবাইলও বন্ধ। অপহরণের মামলা রুজু হয়েছিল। তবে তদন্তের মাঝেই মঙ্গলবার স্ত্রী হাজির হন থানায়। তিনি বলেন, বোনের স্বামী ব্ল্যাকমেল করে তাঁকে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করেছেন। বিয়ের আগের বিভিন্ন সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেবে বলে হুমকি দিয়েছে। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ভগ্নীপতি এই কাজ করে চলেছে। সেই কারণেই তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলেন। ভগ্নীপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণের কেস রুজু করে পুলিশ। তারপরই সাবির আলিকে বুধবার রাতে গ্রেফতার করে।
অভিযোগকারি মহিলার বছর আটেক আগে আগে বিয়ে হয়। তাঁর স্বামী ব্যবসা করেন। মহিলার এক বোন রয়েছে। কিছুদিন পর তাঁরও বিয়ে হয়। দিদি-বোন পাশাপাশি বাড়িতে থাকতেন। বোনের স্বামী প্রায়ই আসত ওই মহিলার বাড়িতে। তাঁর বিভিন্ন ধরনের ছবি ক্যামেরাবন্দি করে সাবির। সেগুলি পাঠিয়ে অভিযোগকারিণীকে কুপ্রস্তাব দেয়। রাজি না হলে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। এরপর ওই যুবক বিভিন্নরকমভাবে মানসিক অত্যাচার শুরু করে তাঁর উপর। ভয় দেখিয়ে বলে, বিয়ের আগে মহিলার কতজনের সঙ্গে সম্পর্কে ছিল, তা তাঁর স্বামীর কাছে ফাঁস করে দেবে। পরিবারের অন্যদের জানিয়ে দেবে। এই সংক্রান্ত পুরোনো কিছু ছবিও দেখায়। সেগুলি ভাইরাল করে দেবে বলে জানায়। এতে তরুণী ভয় পেয়ে যান। ওই যুবকের কথামতো শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ। তরুণীর স্বামী বাড়িতে না থাকলে সাবির প্রায়ই চলে আসত ওই বাড়িতে। সেখানে জোর করে বধূকে একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। সাতমাস লাগাতার ধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী। সম্প্রতি ওই যুবকের অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগকারিণীর দাবি। তার হাত থেকে বাঁচতে সপ্তাহখানেক আগে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। স্বামী রাতে ফিরে স্ত্রীকে না পেয়ে ফোন করেন। মোবাইল বন্ধ থাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও না পেয়ে শেষ পর্যন্ত অভিযোগ করেন তিলজলা থানায়। ৯ ডিসেম্বর রাতে অভিযোগকারিণী থানায় এসে সমস্ত ঘটনার কথা জানান। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ নিশ্চিত হয়, মহিলায় বয়ানে কোনও অসঙ্গতি নেই। ১০ ডিসেম্বর পুলিশ ধর্ষণের কেস রুজু করে। বুধবার রাতে অভিযুক্তকে এলাকা থেকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরায় সে বধূকে ব্ল্যাকমেল করে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।