


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টেস্ট অভিষেক দেখতে পারেননি বাবা। তার আগেই মহম্মদ ঘাউস পাড়ি দেন না-ফেরার দেশে। বাবার শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য যদিও ফিরতে পারেননি ছেলে। মহম্মদ সিরাজ যে তখন অস্ট্রেলিয়ায়। টেস্ট সিরিজে ১৩ উইকেট নিয়ে হায়দরাবাদে পা রাখেন তিনি। এবং প্রথমেই পৌঁছন বাবার কবরের পাশে। কান্নাভেজা চোখে সারেন প্রার্থনা।
চার বছর বাদেও সিরাজের জীবনে প্রবলভাবে উপস্থিত প্রয়াত বাবা। ইংল্যান্ড সফরে রওনা হওয়ার আগে তিনি চলে গিয়েছিলেন বাবার কবরের পাশে। বিলেতে টেস্ট সিরিজে সফল হওয়ার জন্য চেয়ে নেন আশীর্বাদ। নিশ্চিতভাবেই দেশে ফেরার পরও সিরাজের প্রথম গন্তব্য হবে বাবার কবর। ছেলেকে ক্রিকেটার গড়ে তোলাই যে অটোচালক ঘাউসের স্বপ্ন ছিল। আর শয়নে, স্বপনে, জাগরণে বাবার ইচ্ছাপূরণই সিরাজের অনুপ্রেরণা।
বাবাকে খুব মিস করেন বলেই আঁকড়ে ধরেছেন মা’কে। রওনার আগে নিয়েছিলেন মায়ের আশীর্বাদ। সফল হতেই হবে, বলেও ছিলেন। ইংল্যান্ড থেকে প্রতিদিনই ভিডিও ফোনে কথা বলেছেন মায়ের সঙ্গে। গর্বিতা মা তাই বলেছেন, ‘আমার আশীর্বাদ, প্রার্থনা প্রতি মুহূর্তে ওর সঙ্গে আছে। বাবার আশীর্বাদও সিরাজের সঙ্গী।’
অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর সিরিজে বিরামহীন দেখিয়েছে ৩১ বছর বয়সিকে। সমান উদ্যমে লাগাতার বল করে গিয়েছেন তিনি। এর নেপথ্যে রয়েছে ফিটনেস নিয়ে মারাত্মক খাটাখাটনি। পাশাপাশি, খাওয়ার ক্ষেত্রে অসম্ভব সংযম। ফাস্টফুডকে ছেঁটে ফেলেছেন ডায়েট থেকে। পছন্দের বিরিয়ানিও বাড়ির রান্না ছাড়া তোলেন না মুখে। অথচ, নিজেকে নিংড়ে দেওয়ার পরও সিরাজ প্রায়শই থেকে গিয়েছেন পিছনের সারিতে। কখনও যশপ্রীত বুমরাহ, কখনও মহম্মদ সামি কেড়েছেন সার্চলাইট। স্কোয়াডে থাকলেও খেলেননি টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনাল। আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলেই তো ছিলেন না। ওভাল সেজন্যই হয়ে উঠছে তাঁর স্বীকৃতির মঞ্চ।
উল্টোটাও হতে পারত। চতুর্থ দিন হ্যারি ব্রুকের ক্যাচ ধরেও সীমানা স্পর্শ করে ফেলেছিলেন সিরাজ। কয়েক সেকেন্ড হাতে মুখ ঢেকে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। জীবনদান পাওয়া ব্রুক ক্রমশ হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর। পৌঁছন শতরানে। খলনায়ক হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছিলেন তিনি। লর্ডস টেস্টেও হতে হয়েছিল দুর্ভাগ্যের শিকার। সোজা ব্যাটে খেলা বল পিছনে গড়িয়ে ভেঙেছিল স্টাম্প। সিরিজে ১-২ পিছিয়ে পড়েছিলেন শুভমান গিলরা। কে জানত, সোমবারের ওভাল আগের সব অপ্রাপ্তি, বঞ্চনা আর দুর্ভাগ্যকে সুদে-আসলে মিটিয়ে দেবে!