Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

জয়রামবাটির সিংহবাহিনী মন্দির

জয়রামবাটির সিংহবাহিনী মন্দির
  • ১৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

গ্রাম বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বহু মন্দির। বিশ্বাসীদের কাছে সেগুলি অনন্য স্থান দখল করে রেখেছে। এমনই একটি মন্দির হল জয়রামবাটির সিংহবাহিনী মন্দির। সে প্রায় কয়েক শতক আগের কথা। জয়রামবাটির আমোদর নদী থেকে পাওয়া গেল তিনটি দেবীমূর্তি। পিতলের ছোট ঘট আকৃতির উপরে দেবীর মুখ ছিল তাতে। সেই মূর্তিগুলি দিয়েই জয়রামবাটির গোপাল মণ্ডল প্রতিষ্ঠা করলেন এক মন্দির। এর বিশেষত্ব হল—দেবী চণ্ডী ও দেবী মহামায়ার মাঝে রয়েছেন মা সিংহবাহিনী। স্থানীয় রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের পরিবার নিত্যসেবার ভার নিলেন। আসলে সিংহবাহিনী মা দুর্গারই একটি রূপ। এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মা সারদাও। ততদিনে রামকৃষ্ণের সঙ্গে সারদার বিয়ে হয়েছে। স্বামী রামকৃষ্ণের সঙ্গে দক্ষিণেশ্বর ঘুরে গিয়েছেন তিনি। তবে জয়রামবাটি ফিরেই বিপত্তি। অসুস্থ হয়ে পড়লেন তিনি। রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সিংহবাহিনী মায়ের মন্দিরে হত্যে দিলেন মা সারদা। দেবীর স্বপ্নাদেশে পাওয়া ওষুধে সুস্থ হয়ে উঠলেন তিনি। এরপর থেকে মন্দিরের নাম ছড়িয়ে পড়ল মুখে মুখে। শুধু জয়রামবাটি নয়, আশপাশের গ্রাম থেকেও দলে দলে মানুষ আপদে-বিপদে সিংহবাহিনী মন্দিরে ছুটে আসেন শনি ও মঙ্গলবার ভক্তদের ভিড় হয় বেশি। দেবী সিংহবাহিনীর পাশেই পিতলের মা মনসার মূর্তি রয়েছেন। মন্দির সংলগ্ন পূর্ণপুকুর থেকে ঘটের জল তোলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পূজা। সারাদিন হাজার হাজার মানুষ মন্দিরে পূজা দিতে আসেন। তবে এই মন্দিরে কোনওরকম রান্না করা ভোগ নিবেদন করা হয় না। চাল, ফল ও মিষ্টি দিয়ে মায়ের পুজো হয়ে আসছে। এই মন্দিরের বলির থানের পাশে রাখা মাটি সংগ্রহ করে নিয়ে যান ভক্তরা। প্রথমে সিংহবাহিনী মন্দির মাটির থাকলেও এখন বিরাট নাটমন্দির সহ তা সুদৃশ্য মন্দিরে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠা দিবসে বিশেষ পুজো ছাড়া হয় ২৪ প্রহরব্যাপী হরিনাম সংকীর্তন। এই সময় গ্রামবাসীরা মন্দিরে প্রসাদ গ্রহণ করেন। গোপাল মণ্ডলের পরিবারের  তত্ত্বাবধানে ও সারদা দেবীর পরিবারের পৌরহিত্যে আজও সিংহবাহিনী মন্দিরে পুজো হয়।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ