নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রায় এক বিঘা আয়তনের পুকুর। বছরখানেক আগেই সেটি বেআইনিভাবে ভরাট করা শুরু হয়েছিল। তবে জলাশয়টিকে রক্ষা করতে ‘জল ধরো জল ভরো’ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছিল হাওড়া পুরসভা। কিন্তু সরকারি নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভরাট করার কাজ হয়েই গিয়েছে। গত কয়েক মাসে পুকুর হয়ে গিয়েছে ছোট একটি ডোবা। চারপাশ ভরাট করে গজিয়ে উঠেছে ছোট আকারের একাধিক কারখানা। এমনকি কোনও কিছু তোয়াক্কা না করে পুরসভার সাইনবোর্ডটি পর্যন্ত উপড়ে ফেলে দিয়েছে দখলদাররা। হাওড়ার ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলা এলাকায় চোখ কপালে তুলে দেওয়া এ ছবি চোখে পড়বে। ভরাট রুখতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Advertisement
৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলা, শমীচণ্ডী সরণির বাসিন্দাদের বক্তব্য, কয়েক বছর আগেও আশেপাশে ১০টিরও বেশি পুকুর ছিল। বর্ষাকালে সেগুলি নিকাশির কাজে সাহায্য করত। জল জমার সমস্যা হতো না। তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সব পুকুর বুজিয়ে ছোট ছোট কারখানা, ফ্ল্যাট তৈরি করেছে। শেষে অবশিষ্ট ছিল এই এক বিঘা আয়তনের পুকুরটি। সেটিও গত দেড় বছরে প্রোমোটারদের কবলে পড়ে ভরাট হয়ে গিয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভরাটের অভিযোগ পেয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক। পরিস্থিতি দেখার পর কচুরিপানায় ঢেকে যাওয়া পুকুরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে জল ধরো জল ভরো প্রকল্পের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপর কচুরিপানা সাফ করে ‘পুকুর ভরাট আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ’-লেখা সাইনবোর্ড বসায় পুরসভা। পুকুরের মালিকদের পুরভবনে ডেকে সচেতনও করে। কিন্তু বুধবার দেখা গিয়েছে, পুকুরের আয়তন কমে একেবারে ছোট হয়ে গিয়েছে। কচুরিপানায় ভর্তি। পুরসভার সাইনবোর্ড উপড়ে আবর্জনার মধ্যে ফেলে দিয়েছে কেউ। পুকুরের ধারে ছোট আকারের লোহা গলানোর একাধিক কারখানা।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ করতে পর্যন্ত ভয় পেলেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘রাতে এসে কচুরিপানা ছড়িয়ে দিয়ে যায়। বাইরে থেকে আবর্জনা এনে ফেলে। এভাবে চললে কয়েক মাস পর পুকুরটির অস্তিত্বই থাকবে না। মাঠ হয়ে যাবে। গত বর্ষায় জল জমেছে এখানে। কয়েক বছরের মধ্যে গোটা এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়বে বর্ষায়।’
পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘বেআইনি পুকুর ভরাট রুখতে পুরসভা লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে। তারপরও অসাধু চক্রের খপ্পরে পড়ে পুকুর মালিকরা সরকারি নিষেধ অমান্য করছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ করতে পর্যন্ত ভয় পেলেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘রাতে এসে কচুরিপানা ছড়িয়ে দিয়ে যায়। বাইরে থেকে আবর্জনা এনে ফেলে। এভাবে চললে কয়েক মাস পর পুকুরটির অস্তিত্বই থাকবে না। মাঠ হয়ে যাবে। গত বর্ষায় জল জমেছে এখানে। কয়েক বছরের মধ্যে গোটা এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়বে বর্ষায়।’
পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘বেআইনি পুকুর ভরাট রুখতে পুরসভা লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে। তারপরও অসাধু চক্রের খপ্পরে পড়ে পুকুর মালিকরা সরকারি নিষেধ অমান্য করছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



