নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আসল গাড়ির নম্বরপ্লেট নকল করে পুলিসি জরিমানা এড়ানো—অপরাধের নয়া ফন্দিতে জেরবার কলকাতা পুলিস। সম্প্রতি এক সপ্তাহের মধ্যে দু’টি নকল নম্বরপ্লেট লাগানো বাইক বাজেয়াপ্ত করেছে তারা। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চালকদের। জেরায় তাঁদের স্বীকারোক্তি, তাঁরা নম্বরপ্লেট ‘ক্লোন’ করেছেন মল্লিকবাজারে। অপরাধের এই নয়া ট্রেন্ড কীভাবে চালাচ্ছে মল্লিকবাজারের অসাধু কারবারিরা? জানা গিয়েছে, মল্লিকবাজারে গাড়ি, বাইক মেরামতি ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিক্রি হয়। কিন্তু এটাই সব নয়! পাশাপাশি রয়েছে গাড়ি, বাইক সম্পর্কিত বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত অসাধু ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের সক্রিয়তা। চুরি করা গাড়ির বিভিন্ন সরঞ্জাম বিক্রি থেকে শুরু করে দ্রুত সেই গাড়ির রং বদলে দেওয়া—এরকম নানা অপরাধমূলক কাজকর্ম এখানে চলে। ইদানীং মাথাচাড়া দিয়েছে নম্বরপ্লেট নকল বা ‘ক্লোন’। রাস্তায় চলা অন্য কোনও গাড়ির নম্বর লেখা নকল প্লেট জুড়ে দেওয়া হচ্ছে গাড়ি বা বাইকে। এর ফলে সেই গাড়ি বা বাইক ট্রাফিক আইন ভাঙলেও জরিমানার মেসেজ যাচ্ছে আসল নম্বরপ্লেটের সঙ্গে ‘রেজিস্টার্ড’ গাড়ির মালিকের কাছে।
অসাধু ব্যবসায়ীরা এই কাজের জন্য দালাল রাখছে। এমনই এক দালাল বা ক্লোনারের সঙ্গে কথায় কথায় জানা গেল, সকাল হলেই তারা কাজে নেমে পড়ছে। হাতে থাকছে একটি স্মার্টফোন। নম্বরপ্লেট দেখে গাড়ি চিনতে হয় তাদের। গাড়ির বয়স ৫ বছরের মধ্যে হলেই সেটি টার্গেট করছে দালাল বা ক্লোনাররা। কিন্তু শুধু নম্বরপ্লেট দেখে গাড়ির বয়স তারা জানছে কী করে? নম্বরটি এম-পরিবহণ অ্যাপে দিলেই জানা যায় গাড়ির বয়স। সংশ্লিষ্ট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ৫ বছরের মধ্যে হলেই তা জমা পড়ছে যথাস্থানে। এরকম গাড়ির নম্বরপ্লেটের ছবি তুলে নিয়ে যেতে পারলে প্রতিটি ক্ষেত্রে ৩০ টাকা করে ‘কমিশন’ মিলছে তাদের। এরপর এসব নম্বরপ্লেটের ছবি চলে যাচ্ছে মল্লিকবাজারের ‘যন্তরমন্তর’ ঘরে। সেখানেই তৈরি হচ্ছে নকল নম্বরপ্লেট। একেবারে হুবহু এক দেখতে। কোনও ক্রেতা যদি তাতে আবার গ্রাফিক্স ডিজাইন চান, তাও করে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। তবে তার খরচ একটু বেশি। এভাবেই পুলিসি জরিমানা ফাঁকি দিতে নয়া ফন্দি এঁটেছে মল্লিকবাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। অপরাধপ্রবণ কোন কোনও গাড়িমালিক এই সুযোগ নিচ্ছে। আর ভুগছেন ওই নম্বরের গাড়ির আসল মালিক, যিনি ঘুণাক্ষরেও কিছু জানতেন না।