নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: হাতসাফাই থেকে ছিনতাই। চুরি থেকে ডাকাতি। পুজোর মরশুমে শিলিগুড়িতে হানা দিতে পারে ভিনরাজ্যের এমন গ্যাং। অতীতের বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা পর্যালোচনা করে এমন আশঙ্কা গোয়েন্দাদের। এর মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছে পুলিশ। তারা বিশেষ টিম নামাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভ্যান ও মোটর সাইকেলে টহল বাড়ানোর পাশাপাশি শহরের শ্যাডো জোনে বসচ্ছে সিসি ক্যামেরা।
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এক শীর্ষ অফিসার বলেন, পুজোর মরশুমে ভিনরাজ্যের অপরাধীদের দৌরাত্ম্য রোধে একগুচ্ছ পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই মতো অপারেশন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু চুরির ঘটনারও কিনারা করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ তো বটেই রাজ্যে অন্যতম বড়ো শহর শিলিগুড়ি। এই শহরের পাশেই নেপাল ও বাংলাদেশ। আছে বিহার ও সিকিম রাজ্য। এমন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শিলিগুড়িকে টার্গেট করে ভিনরাজ্যের অপরাধীদের গ্যাং। অতীতের কিছু চুরি, ছিনতাই, সোনার দোকানে ডাকাতি, এটিএম লুটের ঘটনা পর্যালোচনা করে গোয়েন্দাদের এমন অনুমান।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা, পড়াশোনা সহ বিভিন্ন কারণে এখানে বহিরাগতদের যাতায়াত ক্রমবর্ধমান। ডেলিভারিবয়, সার্ভিস সেন্টারের কর্মী, রান্নার গ্যাসের ওভেন মেরামত কর্মী সহ শ্রমিকের বেশে এখানে আস্তানা গাড়ছে ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীরা। সুযোগ বুঝে এখানে কিংবা আশপাশ এলাকায় অপারেশন চালিয়ে সহজে গা ঢাকা দিচ্ছে। পুজোর মরশুমে অন্ধকার জগতের ওই গ্যাংগুলির দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পায় এখানে।
গোয়েন্দাদের কাছ থেকে এমন তথ্য পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে তারা ভিনরাজ্যের অপরাধীদের ধরতে বেশকিছু পরিকল্পনা করেছে। এখানে পুলিশের দু’টি জোন। ডিসিপিদের নেতৃত্বে জোন ভিত্তিক বিশেষ টিম নামানো হচ্ছে। এছাড়া, সাদা পোশাকে বাইকপার্ট ও মোবাইল ভ্যানের টহল বাড়ানো হয়েছে। কিছু জায়গায় অধিকাংশ সময় পুলিশ ভ্যান মোতায়েন থাকছে। বিভিন্ন এলাকায় নাকা তল্লাশি চলছে। এরবাইরে নজরদারি চালাতে শহরে বসানো হয়েছে দুই হাজার সিসি ক্যামের। শ্যাডো জোনে আরও কিছু ক্যামেরা বসানো হবে।
পুলিশের এক অফিসার বলেন, ভক্তিনগর, মাটিগাড়া, প্রধাননগর থানা ইতিমধ্যে কিছু চুরির ঘটনা কিনারা করেছে। কিছু দুষ্কৃতী ধরাও পড়েছে। ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতী গ্যাং সম্পর্কে খোঁজখবরও নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি থানাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।