নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: দু’বছরের টার্গেট। তাতে শিলিগুড়ি শহরে নতুন করে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হবে আরও ৯৫ হাজার বাড়িতে। শুক্রবার ফুলবাড়িতে মেগা জল প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের শিলান্যাসের পর একথা জানান পুরসভার জল বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য দুলাল দত্ত। সেখানে পানীয় জলের দ্বিতীয় ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও পুকুর খননের শিলান্যাস করা হয়। এ বিষয়ে মেয়র গৌতম দেব বলেন, এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রকল্পটি নির্মাণের কাজ করা হবে। নির্ধারিত সময়সীমার আট মাস আগে নির্মাণ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দু’জনেরই দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর শহরে দৈনিক চাহিদার তুলনায় বেশি জল সরবরাহ করা হবে।
শিলিগুড়ি শহরে পানীয় জলের সঙ্কট দীর্ঘদিনের। তা মেটাতে ৫১১ কোটি ৮ লক্ষ টাকায় মেগা জল প্রকল্প গড়ার কাজে হাত দিয়েছে পুরসভা। দু’টি ভাগে প্রকল্পটি গড়া হচ্ছে। কয়েক মাস আগে গজলডোবায় প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের নির্মাণ কাজের শিলান্যাস করা হয়। সেখানে তিস্তা নদীতে ইনটেক পয়েন্ট, জেটি, পাওয়ার হাউস ও গজলডোবা থেকে ফুলবাড়ি প্লান্ট পর্যন্ত অপরিস্রুত জল নিয়ে যেতে পাইপ লাইন পাতার কাজ চলছে। এই প্রকল্পে খরচ হবে প্রায় ২০৪ কোটি টাকা।
এই অবস্থায় এদিন ফুলবাড়িতে প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের সূচনা করা হয়েছে। এখানে আর একটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, পুকুর খনন, ১৩টি ওভারহেড রিজার্ভার প্রভৃতি তৈরি হবে। খরচ প্রায় ২৮৭ কোটি ২ লক্ষ টাকা। এদিনের শিলান্যাস অনুষ্ঠানের পর পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগের এমআইসি বলেন, প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ করার পর ১০ হাজার বাড়িতে নতুন করে সংযোগ দেওয়া হবে। এরপর তৃতীয় পর্যায়ে ৭০০ কিমি এলাকায় পাইপ বসানো হবে। তাতে নতুন করে আরও ৮৫ হাজার বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়া হবে। এই কাজ করতে খরচ হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী দু’বছরের মধ্যে মোট ৯৫ হাজার বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। এতে জল পাবেন প্রায় তিন লক্ষ নাগরিক। ইতিমধ্যে তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্প নিয়ে সমীক্ষা শুরু হয়েছে।
মেগা প্রকল্প রূপায়িত হওয়ার পর শহরে পানীয় জলের সঙ্কট ঘুচবে বলেই পুর কর্তৃপক্ষের আশা। পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে শহরে প্রায় ৪৪ হাজার বাড়িতে জলের সংযোগ আছে। দৈনিক চাহিদা প্রায় ৯০ থেকে ১০০ মিলিয়ন লিটার। কিন্তু দৈনিক জল সরবরাহের পরিমাণ মাত্র ৫৫ মিলিয়ন লিটার। এমআইসি বলেন, মেগা জল প্রকল্পের ট্রিটমেন্ট প্লান্টে দৈনিক জল উৎপাদন হবে ১০২ মিলিয়ন লিটার। পাশাপাশি পুরনো প্ল্যান্টে উৎপাদন হবে দৈনিক ৫৫ মিলিয়ন লিটার। শহরে দৈনিক প্রায় দেড় লক্ষ বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ডাবগ্রাম ও ফুলবাড়ি সহ আশপাশের গ্রামীণ এলাকায় জল সরবরাহ করা হবে।
জল সরবরাহ বিভাগের এমআইসি আরও বলেন, বর্তমানে জলসঙ্কট মেটাতে আরও আটটি ডিপ টিউবওয়েল বসানো হবে। তা হলে ডিপ টিউবওয়েলর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৭টি। ইতিমধ্যে ২৫টি ট্যাঙ্কার কেনা হয়েছে। ৫ হাজার লিটারের আরও ১০টি ট্যাঙ্কার কেনা হবে।