সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: আবারও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রোগীকে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার ঘটনা সামনে এল। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল থেকে রেফার করা এক প্রৌঢ়কে মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে বসিয়ে রেখে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: আবারও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রোগীকে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার ঘটনা সামনে এল। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল থেকে রেফার করা এক প্রৌঢ়কে মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে বসিয়ে রেখে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই প্রৌঢ়ের নাম কাজল মজুমদার। তাঁর বাড়ি শিলিগুড়ির ভারতনগরে। গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল থেকে তাঁকে রেফার করা হয়। রেফার টিকিট সহ তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে আনা হলেও, জরুরি বিভাগের সামনে বসিয়ে রেখে সঙ্গীরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এরপর সাতদিন ধরে তিনি জরুরি বিভাগের সামনেই ভবঘুরের মতো পড়েছিলেন। এতদিন একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে পড়ে থাকতে দেখেও নিরাপত্তারক্ষী, স্বাস্থ্যকর্মী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের নজরে বিষয়টি না আসায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে খবর পেয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার গৌতম দাস নিজে উদ্যোগ নিয়ে কাজল মজুমদারকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করান এবং তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার নামে এনে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। অনেকের মতে, মেডিকেল যেন ভবঘুরে ও পরিত্যক্ত রোগীদের ‘ডাম্পিং গ্রাউন্ড’-এ পরিণত হচ্ছে। যদিও কারা এই কাজ করছে, তা হাতেনাতে ধরা না পড়ায় ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, জরুরি বিভাগের সামনে সিসি ক্যামেরা, নিরাপত্তারক্ষী ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন রোগীকে ফেলে রেখে যাওয়া হল এবং তিনি সাতদিন সেখানে পড়ে থাকলেন, অথচ কেউ বিষয়টি খেয়াল করলেন না।
অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার গৌতম দাস জানান, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে। রেফার করার সময় রোগীর দায়িত্বে কারা ছিলেন এবং কীভাবে তাঁকে হাসপাতালে ফেলে রেখে যাওয়া হল, সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।