Bartaman Logo
১১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাবার ই-স্কুটারে স্কুল যাওয়ার পথে ট্রাকের ধাক্কা, বরানগরে মর্মান্তিক মৃত্যু ভাই-বোনের

স্কুল যাওয়ার পথে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা প্রাণ কাড়ল ভাই-বোনের। দু’জনেই ডানলপের খালসা মডেল স্কুলের পড়ুয়া। নাম আরব সাউ (৫) ও আরাধ্যা সাউ (৮)।

বাবার ই-স্কুটারে স্কুল যাওয়ার পথে ট্রাকের ধাক্কা, বরানগরে মর্মান্তিক মৃত্যু ভাই-বোনের
  • ২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: স্কুল যাওয়ার পথে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা প্রাণ কাড়ল ভাই-বোনের। দু’জনেই ডানলপের খালসা মডেল স্কুলের পড়ুয়া। নাম আরব সাউ (৫) ও আরাধ্যা সাউ (৮)। আরব আপার কেজির ছাত্র। আরাধ্যা তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া। বাড়ি আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার অন্তর্গত ৭৭বি, রাজা রামমোহন সরণিতে। দুই পড়ুয়ার অকাল মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপনে সোমবার স্কুল বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। 

Advertisement

প্রতিদিনের মতো শনিবারও বাবা অভিষেক সাউয়ের ই-স্কুটারে চেপে স্কুলে যাচ্ছিল দু’জন। পুলিশ জানিয়েছে, সাড়ে আটটা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে বরানগরের অনন্যা সিনেমার কাছে। বি টি রোডে পড়ে থাকা স্টোনচিপস এড়াতে গিয়ে একটি দশ চাকার ট্রাককে ওভারটেক করতে যান অভিষেকবাবু। কিন্তু ট্রাকের ধাক্কায় তিনি বেসামাল হয়ে পড়েন। স্কুটার নিয়ে উল্টে যান। দুই পড়ুয়ার মাথার উপর দিয়ে ট্রাকটি চলে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাদের। রাস্তার ধারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে তাদের পেনসিল, চশমা, জলের বোতল। স্থানীয় বাসিন্দা সোমনাথ দাস বলেন, ‘আমি ঘরে ছিলাম। হঠাৎ জোরে আওয়াজ পাই। ছুটে গিয়ে দেখি বাচ্চা দু’টোর মাথার উপর দিয়ে ট্রাকের চাকা চলে গিয়েছে। রাস্তায় পড়ে থাকা স্টোনচিপসের কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গেল। বারবার বলা হলেও এই ব্যস্ত রাস্তার ধারে ইমারতি দ্রব্য পড়ে থাকছে। এদিন তার মাশুল দিল ছোট্ট তরতাজা দু’টি প্রাণ।’ অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী অভীক দাস বলেন, ‘স্কুটারটি স্টোনচিপস কাটাতে রাস্তার মাঝখানে চলে গিয়েছিল। তখন ওভারটেক করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা। অনন্যা সিনেমা হলের কাছ থেকে মল্লিক কলোনির মোড় পর্যন্ত ট্রাকটি স্কুটারটিকে টানতে টানতে নিয়ে যায়। তবে ড্রাইভার কিন্তু পালাননি।’ চালক অজয় যাদবকে গ্রেপ্তার করেছে বরানগর থানা। আটক করা হয়েছে ট্রাকটিকেও। এই দুর্ঘটনায় পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন অভিষেকবাবু। তাঁকে প্রথমে সাগর দত্ত হাসপাতালে, পরে ফুলবাগানের একটি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। রাতে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। পেশায় লোহার ব্যবসায়ী অভিষেক সাউ। তাঁর স্ত্রী শ্বেতাকে রাত পর্যন্ত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা বলা হয়নি। তিনি জানেন, দুই সন্তান জখম। শিশু বিভাগে চিকিৎসাধীন। স্বামীর আঘাত গুরুতর। তাঁদের আত্মীয় গৌতম জয়সওয়াল বলেন, ‘রাস্তায় পড়ে থাকা স্টোনচিপস বাচ্চা দু’টোর প্রাণ কেড়ে নিল। ওদের মাকে কী বলব জানি না। দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।’
খবর পেয়ে সকালেই ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় বিধায়ক সজল ঘোষ। রাস্তায় ইমারতি দ্রব্য কেন পড়ে থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এরপরেই বরানগর থানা ওই স্টোনচিপস বাজেয়াপ্ত করে। কৈলাস সাউ নামে যে বিল্ডার্স ওই স্টোনচিপস ফেলেছিলেন, তার খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। তিনি ওড়িশায় আছেন বলে খবর। তাঁর এক কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। রাস্তার ধারে ইমারতি দ্রব্য ফেলে রাখার প্রতিবাদে এসইউসিআই থানায় বিক্ষোভ দেখায় এবং স্মারকলিপি জমা দেয় এদিন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ