Bartaman Logo
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শ্যামপুকুরের দম্পতির ৩ লক্ষ টাকা প্রতারণা, চিটফান্ড চালান পুলিশকর্তার দেহরক্ষী! অভিযোগে চাঞ্চল্য

‘বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা’—এই প্রবাদই যেন একেবারে উপযুক্ত। কলকাতা পুলিশের এক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার অফিসারের দেহরক্ষী কনস্টেবলের বিরুদ্ধে চিটফান্ড চালানোর অভিযোগ উঠল

শ্যামপুকুরের দম্পতির ৩ লক্ষ টাকা প্রতারণা, চিটফান্ড চালান পুলিশকর্তার দেহরক্ষী! অভিযোগে চাঞ্চল্য
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা’—এই প্রবাদই যেন একেবারে উপযুক্ত। কলকাতা পুলিশের এক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার অফিসারের দেহরক্ষী কনস্টেবলের বিরুদ্ধে চিটফান্ড চালানোর অভিযোগ উঠল। শুধু চিটফান্ড চালানো নয়, মোটা টাকা রিটার্নের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়েছে লালবাজারে। শ্যামপুকুর থানা এলাকার এক দম্পতি ওই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন থানাতেও। অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। 

Advertisement

অভিযোগকারীর নাম প্রসেনজিৎ ঘোষাল। তিনি শ্যামবাজারের বাসিন্দা। ২০২৪ সালে কলকাতা পুলিশের এক কনস্টেবলের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। সেই পুলিশকর্মী নিজেকে লালবাজারের এক আইপিএস অফিসারের দেহরক্ষী হিসাবে পরিচয় দেন। বর্তমানে ওই আইপিএস অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের পদমর্যাদায় কর্মরত। প্রসেনজিৎবাবুর দাবি, এসডিএফএক্স গ্লোবাল নামে একটি কোম্পানি চালান বলে জানিয়েছিলেন ওই পুলিশকর্মী। খোদ লালবাজারের আধিকারিকের দেহরক্ষী পরিচয় দেওয়ায়, ভরসা পেয়ে সেই কোম্পানিতে লগ্নি শুরু করেন অভিযোগকারী। শ্যামবাজারের বাসিন্দা পুলিশকে জানিয়েছেন, ২০২৪ সাল থেকে পাঁচদফায় মোট ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা লগ্নি করেন। কিছু টাকা প্রসেনজিৎবাবুর স্ত্রী’র অ্যাকাউন্ট থেকেও পৌঁছেছিল পুলিশকর্মীর অ্যাকাউন্টে। কিন্তু, গত দু’বছরে কোনো টাকাই রিটার্ন পাননি লগ্নিকারী। তাই সংশ্লিষ্ট কোম্পানি থেকে টাকা তুলে নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে চাপ দিতে থাকেন অভিযোগকারী। কিন্তু, নানা অছিলায় টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ। একাধিকবার তাগাদা পেয়ে মাত্র ১১ হাজার ৬১৫ টাকা ফেরত দেন অভিযুক্ত। বাকি টাকা ফেরত দেননি। অভিযোগ, প্রসেনজিতবাবুর নম্বর ব্লক করে দেন ওই পুলিশকর্মী। সূত্রের খবর, ওই চিটফান্ড কোম্পানিতে আরও এক ব্যক্তি যুক্ত রয়েছেন। টাকা ফেরতের জন্য তাঁর সঙ্গেও যোগাযোগ করেন লগ্নিকারী। কিন্তু, তাঁর থেকেও কোনো উত্তর মেলেনি। প্রসঙ্গত, কলকাতা পুলিশের ওই কর্মীর বিরুদ্ধে লালবাজারে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধদমন) কুণাল আগরওয়ালকে ই-মেল করে একটি অভিযোগপত্র পাঠান অভিযোগকারী। সেই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন গোয়েন্দা প্রধানের অফিস। সেই অভিযোগের কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয় শ্যামপুকুর থানায়। পুলিশ সূত্রের খবর, শ্যামপুকুর থানাতেও একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন অভিযোগকারী। তার ভিত্তিতে অভিযুক্ত কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হতে পারে। এপ্রসঙ্গে, কলকাতা পুলিশের ওই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও, তিনি মেসেজের কোনো উত্তর দেননি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ