Bartaman Logo
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কৌশিকী অমাবস্যায় শুম্ভ‑নিশুম্ভ বধ ফুলবাজারে বিক্রি ৪০ লক্ষের জবা

আজ, বৃহস্পতিবার কৌশিকী অমাবস্যা। ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথিকে ‘কৌশিকী অমাবস্যা’ বলা হয়

কৌশিকী অমাবস্যায় শুম্ভ‑নিশুম্ভ বধ ফুলবাজারে বিক্রি ৪০ লক্ষের জবা
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, বৃহস্পতিবার কৌশিকী অমাবস্যা। ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথিকে ‘কৌশিকী অমাবস্যা’ বলা হয়। পুরাকালে এই তিথিতেই দুই পরাক্রমশালী অসুর, শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেছিলেন দেবী কৌশিকী। শাস্ত্রমতে, কৌশিকীকে ‘কালীকা’ ও ‘চণ্ডীকা’ নামে ডাকা হয়। বৃহস্পতিবার কলকাতার জগন্নাথ ঘাট ফুলবাজারে দেবীর পুজোর জন্য বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার জবা। ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, বুধবার থেকেই জবার চাহিদা ছিল তুঙ্গে। ভোর থেকে কলকাতা ও শহরতলির খুচরো ফুল ব্যবসায়ীরা একশো আট, হাজার আট জবার কুঁড়ির মালা কিনতে ভিড় জমান। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের লোকজনও ফুল বাজারে জবার মালা কিনতে আসেন। মূলত দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর থেকে আসে জবার কুঁড়ি। বৃষ্টি ও চাহিদা বেশি থাকায় জবার দাম ছিল বেশি।

Advertisement

অনেকের মতে, অন্য অমাবস্যার থেকে এই অমাবস্যা তিথি আলাদা। এর তাৎপর্য অসীম। মঙ্গলারতির মধ্যে দিয়ে শুরু হয় শক্তিদেবীর পুজো। দেবীকে নিবেদন করা হয় নানা ধরনের ভোগ। থাকে ফল, মিষ্টি, ক্ষীর প্রভৃতি। কোথাও নিবেদন করা হয় আমিষ ভোগ। থাকে নানা ধরনের ভাজা, পোলাও, ভাত, মাছ সহ অন্যান্য পদ। হয় মহাযজ্ঞ। এই তিথি ঘিরে বিভিন্ন সতীপীঠ যেমন, কালীঘাট, তারাপীঠ সহ বিভিন্ন কালীধামে ধূমধাম করে পুজো হয় কালীর। কলকাতার প্রাচীন কালী মন্দিরেও হয় পুজো। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মভিটার সম্পাদক স্বামী জ্ঞানলোকানন্দ বলেন ‘এই বিশেষ দিনের রাত্রিকালকে বলা হয় সিদ্ধরাত্রি। সাধক বামাখ্যাপা এই বিশেষ রাতেই সিদ্ধলাভ করেছিলেন। সে কারণে এদিন তারাপীঠে অসংখ্য ভক্তের সমাগম হয়। তাঁরা ভক্তিভরে পুজো নিবেদন করেন। তাতে দেবী তুষ্ট হন।’ 
বরানগর শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমের সম্পাদক স্বামী সারদাত্মানন্দ বলেন, ‘কৌশিকী অমাবস্যার দিনটি শক্তিসাধকদের কাছে বিশেষ রূপে মর্যাদা পায়। এই রাত্রে কঠোর সাধনার বলে সংকট কাটিয়ে ইতিবাচক শক্তি অর্জন করে থাকেন কালী সাধকরা।’ এদিন ফুলবাজারে ১০৮ জবার কুঁড়ির মালা ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ছোটো জবার মালা বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। ফুল ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, বৃহস্পতিবার ছিল একদিকে লক্ষ্মীবার, অন্যদিকে ছিল কৌশিকী অমাবস্যা। সবমিলিয়ে এদিন ফুলের দর ছিল অনেকটাই চড়া।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ