সংবাদদাতা, শীতলকুচি: চাকরির দাবি তুলে চলতি সপ্তাহের সোমবার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেয় জমিদাতারা। জমিদাতাদের তরফে জানানো হয়েছিল শীতলকুচি ব্লকের ৩৪টি কেন্দ্রে একযোগে তালা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি তালা বন্ধ হয়ে থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শতাধিক শিশু, প্রসূতি ও গর্ভবতীকে। শুক্রবারও পুষ্টিকর খাবার পাননি তারা। চারদিন পরেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। যদিও দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ছ’টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের তালা খুলে দিয়েছে জামিদাতারা। বাকিগুলির তালা বন্ধ রয়েছে। পরিষেবা স্বাভাবিক করতে জমিদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।
Advertisement
প্রসঙ্গত, গতবছর শীতলকুচি ব্লকের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে কর্মী ও সহায়িকা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। সেপ্টেম্বর মাসে লিখিত পরীক্ষা দেন কয়েক হাজার পরীক্ষার্থী। ডিসেম্বর মাসে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে দপ্তর। এরপরেই চাকরির জোরালো দাবি তোলেন জামিদাতারা। শুক্রবার ছোট শালবাড়ি পঞ্চায়েতের হাসেনা বিবি বলেন, আমার নাতি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পড়ে। কিন্তু চারদিন থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ। ফলে পড়াশোনা ও পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে না সে। কবে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র খুলবে জানা নেই। দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি। যদিও চাকরির দাবি নিয়ে অনড় জমিদাতারা । জমিদাতাদের তরফে সামসুল হক জানান, আমার স্ত্রী ২৮৭ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে প্রায় ১৪ বছর ধরে বিনা পরিশ্রমে রান্নার কাজ করে আসছেন। সেসময় আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিয়োগ হলে সহায়িকার কাজ দেওয়া হবে। কিন্তু এখনও আমাদের বিষয় নিয়ে ভাবা হচ্ছে না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওই কেন্দ্রগুলির তালা খুলব না। এ বিষয়ে শীতলকুচি সিডিপিও প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জমিদাতাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হচ্ছে।



