Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শীতঘুম নেই! শহরে এক মাসে উদ্ধার ২৫০ চন্দ্রবোড়া, কেউটে

শীতঘুম নেই! শহরে এক মাসে উদ্ধার ২৫০ চন্দ্রবোড়া, কেউটে
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: ঠান্ডা পড়লে শীতঘুমে যায় বিষধর সাপ। কিন্তু এবার এই ডিসেম্বরেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চন্দ্রবোড়া। ঘুরে বেড়াচ্ছে কেউটে, গোখরোও। সাপ বেরিয়েছে বলে, শহরে বনদপ্তরের অফিসে প্রতিদিনই ফোন আসছে ২০ থেকে ২৫টি। এই শীতের মরশুমেও প্রতিদিন গড়ে বিষধর সাপ উদ্ধার হচ্ছে আট থেকে ১০টি। 
Advertisement
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত একমাসে কলকাতা, সল্টলেক ও নিউটাউন থেকে দেড়শোরও বেশি চন্দ্রবোড়া উদ্ধার হয়েছে। কেউটে ও গোখরো উদ্ধার হয়েছে শতাধিক। সাপ কী তাহলে শীতঘুমে যায়নি? বনদপ্তরের দাবি, শীতের শুরুর সময় হল চন্দ্রবোড়ার ব্রিডিং টাইম। তাই এত সংখ্যক চন্দ্রবোড়া বের হচ্ছে। এর পাশাপাশি পরিবেশের বদল এবং জাঁকিয়ে শীত পড়েনি বলে এত কেউটে ও গোখরো দেখা যাচ্ছে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা, সল্টলেক ও নিউটাউনে বিষধর সাপ বের হলে সল্টলেক বন্যপ্রাণ শাখার কর্মীরা তা উদ্ধার করেন। শীতের সময় কম ডাক পড়ে। কিন্তু এই ডিসেম্বরও তাঁদের প্রতিদিন দৌড়তে হচ্ছে। শুধু গত সোমবারই কলকাতা, সল্টলেক ও নিউটাউন থেকে সাতটি সাপ উদ্ধার হয়েছে, এর মধ্যে চারটি চন্দ্রবোড়া, দু’টি কেউটে এবং একটি গোখরো। সবথেকে বেশি চন্দ্রবোড়া বের হচ্ছে নিউটাউন শহরে। সেখানে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও মিলছে। বর্ষার সময় প্রতিবার নিউটাউনে চন্দ্রবোড়ার উৎপাত শুরু হয়। গত বছর বর্ষায় চন্দ্রবোড়ার কামড়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। কামড় খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন বহু মানুষ। গত নভেম্বরেও একজন কামড় খেয়েছিলেন। তবে চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হন। নিউটাউনে চন্দ্রবোড়ার সঙ্গে কেউটে ও গোখরোও পাওয়া যাচ্ছে।
বিমানবন্দর সংলগ্ন নারায়ণপুর, গোপালপুরেও বেড়েছে চন্দ্রবোড়ার উৎপাত। নিউটাউনের পাশাপাশি চন্দ্রবোড়া পাওয়া যাচ্ছে কলকাতার লেদার কমপ্লেক্স থানার হাটিগাছি, বানতলা এলাকাতেও। সম্প্রতি প্রচুর সাপ সেখানে উদ্ধার হয়েছে। বেহালা, মেটিয়াবুরুজ থেকেও কিছুদিন চন্দ্রবোড়া উদ্ধার হয়েছে। সল্টলেকেও পাওয়া গিয়েছে চন্দ্রবোড়া। ইএম বাইপাসের পাঁচতারা হোটেলের উল্টোদিকের চাষের জমিতে মিলেছে চন্দ্রবোড়া, কেউটে ও গোখরো। বনদপ্তরের (বন্যপ্রাণ) সল্টলেকের রেঞ্জ অফিসার মনোজ কুমার যশ বলেন, ‘ফোনে সাপের খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করছেন। যাতে সাপেদের মেরে ফেলা না হয় সে জন্য এই কাজ হচ্ছে। এখন সবথেকে বেশি চন্দ্রবোড়া উদ্ধার হচ্ছে। কেউটে ও গোখরোও পাওয়া যাচ্ছে। তবে সাপের কামড়ে কোনও মৃত্যুর খবর নেই।’ 
সম্পর্কিত সংবাদ