Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

শতবর্ষে গুরু

শতবর্ষে গুরু
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
কলকাতায় লিভার ব্রাদার্সের কারখানায় টেলিফোন অপারেটরের চাকরিটা পেয়েই বাবা-মায়ের কাছে তার করেছিলেন বসন্তকুমার শিবশঙ্কর পাড়ুকোন। লিভার ব্রাদার্স বিশ্ববিখ্যাত সংস্থা। মাইনেও নেহাত কম নয়। খুশি হওয়ারই কথা। কিন্তু সে খুশি বেশিদিন সইল না। চাকরিটা ছেড়েই দিলেন। আসলে ধরাবাঁধা ছকে চলা তাঁর রক্তে নেই। এর আগে আলমোড়ায় উদয়শঙ্করের ট্রুপে নাচ শিখেছেন কিছুদিন। ছোটবেলা কেটেছে ভবানীপুরে। জড়তাহীন বাংলা বলতে পারেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রিয় কবি। লিভার ব্রাদার্সের চাকরি ছেড়ে পাড়ি দিলেন তৎকালীন বম্বেতে, বাবা-মায়ের কাছে। সেখানে কিছুদিন এদিক ওদিক ঘোরাঘুরির পর এক কাকার দয়ায় পুনের প্রভাত ফিল্ম স্টুডিওতে চাকরি জুটে গেল। তিন বছরের চুক্তি। এই চাকরিটাই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল বসন্তকুমার পাড়ুকোনের। বসন্তকুমার থেকে তাঁর নাম পাল্টে বাবা-মা রেখেছিলেন গুরুদত্ত পাড়ুকোন। সেটাই পরবর্তীকালে ছোট হয়ে হল গুরু দত্ত। প্রভাত ফিল্ম স্টুডিওতে তাঁর আলাপ হল দেব আনন্দ আর রেহমানের সঙ্গে। তিনজন হরিহর আত্মা হয়ে গেলেন। এই বন্ধুত্ব শেষ জীবন অবধি টিকেছিল। তিনজনই তখন স্ট্রাগলার। তখনই একটা ভদ্রলোকের চুক্তি হয়েছিল দেব আর গুরুর মধ্যে। ঠিক হয়েছিল, দেব যদি প্রথমে ফিল্ম প্রোডিউস করেন তবে গুরুকে পরিচালক হিসেবে নেবেন, আর গুরু যদি প্রথমে ফিল্ম ডিরেকশনের সুযোগ পান, তবে দেবকে নায়ক হিসেবে নেবেন। তা-ই হয়েছিল। এক সময়ে দু’জনেরই চুক্তি শেষ হয় প্রভাত স্টুডিওর সঙ্গে। গুরু মাস দশেক চাকরিহীন অবস্থায় ঘোরাঘুরির পর জ্ঞান মুখার্জি, অমিয় চক্রবর্তীর মতো তৎকালীন বিখ্যাত পরিচালকদের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। ইতিমধ্যে দেব আনন্দ তৈরি করে ফেলেছেন নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘নবকেতন’। প্রথম ছবি তৈরির পরিকল্পনাও করে ফেলেছেন। চুক্তিমতো ডাক পেলেন গুরু দত্ত। নবকেতনের প্রথম ছবি ‘বাজি’ (১৯৫১) পরিচালনা করতে হবে তাঁকে। নায়ক দেব আনন্দ স্বয়ং। বাজি জিতে গেলেন গুরু, এবং দেবও। ফিল্ম সুপারহিট। ১৯২৫ সালের ৯ জুলাই জন্মেছিলেন গুরু। তাঁর শতবর্ষ চলছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ