নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আর জি কর কাণ্ডে দোষী সঞ্জয় রায়ের সাজা ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন মৃত চিকিৎসকের প্রথম কর্মজীবনের সহকর্মীরা। সোমবার যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণায় মধ্যমগ্রাম মাতৃসদন হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এই রায়ে খুশি সহকর্মীদের একটি বড় অংশ। তাঁদের বক্তব্য, মৃত্যু হয়ে গেলে সব শেষ হয়ে যেত। এবার তিলে তিলে চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি থাকুক এই ধর্ষক-খুনি। আবার কারও বক্তব্য, ফাঁসি হলেই ভালো হতো।
Advertisement
মৃতা চিকিৎসকের হাতেখড়ি হয়েছিল মধ্যমগ্রাম পুরসভা পরিচালিত মাতৃসদন হাসপাতালে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এখানে কাজ করেছেন। কোভিডের বিরুদ্ধে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছিলেন। কাজের প্রতি দায়বদ্ধ ছিলেন। ২০২২ সালে আর জি করে এম ডি করার সুযোগ পাওয়ার পর মাতৃসদনের কর্মীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিয়েছিলেন। তাঁর ব্যবহারে মুগ্ধ সহকর্মীরা। এরপর তাঁর সঙ্গে নারকীয় ঘটনা ঘটার পর গত সাড়ে পাঁচ মাস ধরে চূড়ান্ত সাজার জন্য প্রহর গুণছিলেন। এদিন রায় শোনার জন্য কাজের ফাঁকে খবরে চোখ রাখছিলেন। নার্স মঞ্জুরি দত্ত ধর বলেন, ‘যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা হোক এটিই চেয়েছিলাম। তিলে তিলে জেলে থেকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাক।’ রুমা সরকার নামে আর এক সহকর্মী বলেন, ‘সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিলাম।’ সহকর্মী নিশীথা পাল বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডের সাজা হলে ভালো হতো। তবে যাবজ্জীবন সাজাও দৃষ্টান্তমূলক।’ অ্যাম্বুল্যান্স চালক সমীর ভট্টাচার্য বলেন, ‘যাবজ্জীবন জেলের কুঠুরিতে অনুশোচনা করবে।’ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার সুশান্ত পাল বলেন, ‘বিচারকের পর্যবেক্ষণ ঠিক। শাস্তির জ্বালা সহ্য করতে হবে চার দেওয়ালের মধ্যে থেকে।’



