নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বছর খানেক আগে রাজ্য সরকারের টাকায় রাস্তার ধারে তৈরি হয়েছিল যাত্রী প্রতীক্ষালয়। কিন্তু রাতারাতি সেই প্রতীক্ষালয় ‘উধাও’। পরিবর্তে সেই জায়গা হয়ে উঠল তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়। বিষয়টি নজরে আসার পর দলীয় অফিস সরিয়ে ওই প্রতীক্ষালয়কে সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য করে তোলার কাজ শুরু করল প্রশাসন। দীর্ঘদিন এই প্রতীক্ষালয় ব্যবহার করতে না পারায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। অবশেষে সেই ক্ষোভের নিরসন হয়েছে।
Advertisement
জানা গিয়েছে, শাসন থানার অন্তর্গত দাদপুর এলাকায় বছরখানেক আগে তৈরি হয়েছিল একটি সরকারি যাত্রী প্রতীক্ষালয়। সরকারের পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় সেটি তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা বারাসত ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আসের আলি মল্লিক সেটি দখল করে নেন। গোটা প্রতীক্ষালয় ঘিরে দিয়ে সেখানে বসানো হয় এসি, টিভি, টেবিল, চেয়ার। সেটিকে দলীয় কার্যালয় বানিয়ে নীল-সাদা রংও করা হয়েছিল। কিছুদিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হচ্ছিল। এটি স্থানীয়ভাবে আসের আলির কার্যালয় বলেই পরিচিত। আসের আলি আবার হাড়োয়া বিধানসভার উপ নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী শেখ রবিউল ইসলামের নির্বাচনী এজেন্ট। ক’দিন আগে তাঁর নামে এলাকায় পোস্টার পড়েছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য এমদাদুল হক বলেন, প্রথমে এটি ছিল যাত্রী প্রতীক্ষালয়। সরকারি টাকায় তৈরি এই প্রতীক্ষালয় পরে হয়ে গেল পার্টি অফিস। স্থানীয় বাসিন্দা কাসেম আলি বলেন, তৃণমূল নেতা আসের আলি ওই যাত্রী প্রতীক্ষালয় দখল করে নিয়েছেন। সাধারণ মানুষ সেটি ব্যবহার করতে পারেন না। বিষয়টি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে বারাসত ২ নম্বর ব্লক প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই প্রতীক্ষালয় পরিদর্শন করেন ব্লক প্রশাসন ও পুলিসের আধিকারিকরা। সাধারণ মানুষ যাতে এটি ব্যবহার করতে পারেন, তার আশ্বাস দিয়েছেন বিডিও শেখর সাঁই। তারপরই ওই প্রতীক্ষালয়কে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। যাত্রী প্রতীক্ষালয়ের আগের নামও লেখা হয়েছে। যদিও এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি আসের আলি মল্লিক। এ নিয়ে আসের আলি মল্লিককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ওটা যাত্রী প্রতীক্ষালয়। আমি সেখানে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে বসতাম। জানালা, দরজা লাগানো হয়েছিল। টিভিও ছিল। আমি নিজে এসি বসিয়েছি যাত্রীদের সুবিধার জন্য। নির্বাচনের কারণে সেখানে দলের কর্মীরা তৃণমূলের ঝান্ডা রেখে দিয়েছিল। দখলের কোনও বিষয় নেই। আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে নির্বাচনের মুখে অপপ্রচার করা হচ্ছে।



