Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিশু বিক্রি কাণ্ডে ঠাকুরপুকুরের নার্সিংহোম কর্মী সিআইডির জালে

শিশু বিক্রি কাণ্ডে ঠাকুরপুকুরের নার্সিংহোম কর্মী সিআইডির জালে
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফেসবুকে গ্রুপ খুলে শিশু বিক্রি কাণ্ডের তদন্তে ঠাকুরপুকুর এলাকার একটি নার্সিংহোমের কর্মীকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি। নদীয়ার হাঁসখালির বাসিন্দা সৌরভ অধিকারী নামে ওই অভিযুক্ত মানিক ও মুকুলকে শিশুদের জন্মের শংসাপত্র তৈরি করে দিত। কতজনকে এভাবে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা হচ্ছে। 
Advertisement
নভেম্বর মাসে সিআইডির পাতা ফাঁদে পা দিয়ে শিশু বিক্রি করতে এসে  শালিমার স্টেশনে ধরা পড়ে মানিক হালদার ও তার স্ত্রী মুকুল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি শিশু। জানা যায়, বাচ্চাটিকে বিহার থেকে আনা হয়েছিল। তাকে কলকাতার এক দম্পতির কাছে বিক্রির কথা ছিল। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তাদের সঙ্গে বিভিন্ন নার্সিংহোমের যোগাযোগ রয়েছে। যেখানে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের নিয়ে এসে প্রসব করানো হচ্ছে। এই নার্সিংহোমের তরফে নবজাতকের জন্মের শংসাপত্র চলে যাচ্ছে বিভিন্ন পুরসভায়। দালালদের মাধ্যমে তারা এই সার্টিফিকেট তুলে নিচ্ছে। অভিযুক্ত দম্পতির মোবাইল থেকে সৌরভ নামে একজনের নাম পাওয়া যায়। জানা যায়, সে ঠাকুরপুকুর এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ওটি অ্যাসিসট্যান্ট হিসেবে কাজ করছে। তার হাসপাতালে বেশ কয়েকজনকে প্রসবের জন্য নিয়ে এসেছিল মুকুল। কোনওরকম নথি ছাড়াই ভর্তি করা হয়েছিল ওই মহিলাদের। সৌরভ নিজে ডাক্তার ম্যানেজ করে মহিলাদের প্রসবের ব্যবস্থা করেছে। তার বিরুদ্ধে জোরালো তথ্যপ্রমাণ আসার পরই  মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়। 
ধৃত তদন্তকারীদের জানিয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ তার হাসপাতালে এসেছিল মুকুল। তখনই আলাপ। মুকুল জানায়, এখানে সে তার পরিচিত মহিলাদের নিয়ে এসে প্রসব করাতে চায়। কয়েকজনকে নিয়ে আসার পর তার সঙ্গে ওই দম্পতির ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সৌরভ শিশু বিক্রি ও পাচার চক্রে জড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত এই দম্পতিকে শিশুদের জন্মের শংসাপত্র তৈরি করে দিত। এরজন্য বিভিন্ন নার্সিংহোমের নামে রোগী ভর্তির ভুয়ো কাগজপত্র তৈরি করত অভিযুক্ত। সেগুলি দালাল মারফত পাঠিয়ে দিত বিভিন্ন পুরসভার। ওই নথির বিনিময়ে বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করে দিত সৌরভ। যে সব নিঃসন্তান দম্পতি শিশু কিনতেন, তাঁদের এই সার্টিফেকেট দিত দম্পতি। এর বিনিময়ে মোটা টাকা রোজগার করেছে অভিযুক্ত। কত জনকে সে বার্থ সার্টিফেকেট তৈরি করে দিয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।   
সম্পর্কিত সংবাদ