সংবাদদাতা, বনগাঁ: ‘টেপির মায়ের সংসার, কত কিছু দরকার/যে সংসারে নেই ভালোবাসা, তা হয়ে যায় ছারখার/সেই সংসারের জন্য ভালোবাসার দুরন্ত অফার ...।’ সংসারে ভালোবাসার একটি অন্যতম উপাদান যে সেফটিপিনও, সেটি এই ছড়াটি না শুনলে জানা সম্ভবই হতো না।
Advertisement
ছড়াটি যিনি বলছেন তাঁর মাথায় সেফটিপিনের বোঝা। শরীরে পোশাকের সর্বত্র সেফটিপিন ঝোলানো। সঙ্গে অবশ্য রয়েছে চাবির রিং, কান পরিষ্কারের কাঠি, আরও কতরকমের জিনিস। সেফটিপিনের ফাঁক দিয়ে দেখা যায় মোটা কাচের চশমার পিছনে গর্তে ঢুকে যাওয়া চোখ। মুখ অবিরত চলছে। কান পাতলে শোনা যায়, এরকম নানা মজার ছড়া। যার সঙ্গে জড়িয়ে সহজ জীবনবোধ। এটিই মানুষটির ইউএসপি। যার মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে টেনে নেন অনায়াসেই।
কেউ কিনছেন। কেউ দেখছেন। কেউ শুধু ছড়া শুনতেই আলাপ জমাচ্ছেন। সকলকেই মুখের হাসিতে আপন করে নিচ্ছেন রতন রায়।
গ্রামে ঘুরে, হাটে বাজারে ঘুরে দিনের শেষে বিক্রি করে যা রোজগার হয় তা দিয়ে দিব্যি চলে যায় সংসার। স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সুখেই রয়েছেন তিনি। গোপালনগরের চালকির বাসিন্দা রতনবাবু। পায়ে হেঁটে জিনিসপত্র ফেরি করেন। অন্যান্য ফেরিওয়ালাদের থেকে তিনি একটু আলাদাও। কারণ তাঁর কবিতা তৈরির ক্ষমতা। ঘরের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রগুলি নিজেই নামকরণ করেছেন।
যেমন, সীতার চেন, রাবণের চেন, বাপিদার চেন, সুড়সুড়ি কাঠি, মোবাইলের ডাইনিং টেবিল ইত্যাদি। শরীরে হরেকরকম মালপত্র ঝুলিয়ে ঘুরে ঘুরে ফেরি করেন। মুখে কখনও টেপি, কখনও সীতা, কখনও রাবণ।
একসময় ট্রেনে জিনিস ফেরি করতেন। একবার পড়ে গিয়েছিলেন চলন্ত ট্রেন থেকে। কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে যান। তবে দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে ঘরে কাটাতে হয়েছিল। সুস্থ হয়ে আবার কাজ শুরু করেন। তবে পায়ে হেঁটে হাটেবাজারে ঘোরেন এখন। রতনবাবু বলেন, ‘আমার কাজই আমার বেঁচে থাকার রসদ। কবিতা, ছড়া ক্রেতাদের ভালো লাগে। অনেকেই আমাকে দেখে ছবি তুলতে চান। তাঁরা আনন্দ পেলে আমারও খুব আনন্দ হয়। নেবেন নাকি সেফটিপিন?’
(সেফটিপিনের ‘বোঝা’ নিয়ে রতন রায়। -নিজস্ব চিত্র)
কেউ কিনছেন। কেউ দেখছেন। কেউ শুধু ছড়া শুনতেই আলাপ জমাচ্ছেন। সকলকেই মুখের হাসিতে আপন করে নিচ্ছেন রতন রায়।
গ্রামে ঘুরে, হাটে বাজারে ঘুরে দিনের শেষে বিক্রি করে যা রোজগার হয় তা দিয়ে দিব্যি চলে যায় সংসার। স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সুখেই রয়েছেন তিনি। গোপালনগরের চালকির বাসিন্দা রতনবাবু। পায়ে হেঁটে জিনিসপত্র ফেরি করেন। অন্যান্য ফেরিওয়ালাদের থেকে তিনি একটু আলাদাও। কারণ তাঁর কবিতা তৈরির ক্ষমতা। ঘরের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রগুলি নিজেই নামকরণ করেছেন।
যেমন, সীতার চেন, রাবণের চেন, বাপিদার চেন, সুড়সুড়ি কাঠি, মোবাইলের ডাইনিং টেবিল ইত্যাদি। শরীরে হরেকরকম মালপত্র ঝুলিয়ে ঘুরে ঘুরে ফেরি করেন। মুখে কখনও টেপি, কখনও সীতা, কখনও রাবণ।
একসময় ট্রেনে জিনিস ফেরি করতেন। একবার পড়ে গিয়েছিলেন চলন্ত ট্রেন থেকে। কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে যান। তবে দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে ঘরে কাটাতে হয়েছিল। সুস্থ হয়ে আবার কাজ শুরু করেন। তবে পায়ে হেঁটে হাটেবাজারে ঘোরেন এখন। রতনবাবু বলেন, ‘আমার কাজই আমার বেঁচে থাকার রসদ। কবিতা, ছড়া ক্রেতাদের ভালো লাগে। অনেকেই আমাকে দেখে ছবি তুলতে চান। তাঁরা আনন্দ পেলে আমারও খুব আনন্দ হয়। নেবেন নাকি সেফটিপিন?’
(সেফটিপিনের ‘বোঝা’ নিয়ে রতন রায়। -নিজস্ব চিত্র)



