নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেয়ার ট্রেডিংয়ের টোপ দিয়ে দেশজুড়ে চলছিল প্রতারণা। বাদ ছিল না কলকাতাও। প্রতি মাসেই বদলে যেত প্রতারকদের ডেরা ও মোবাইল নম্বর। অভিযুক্তরা যে খোদ কলকাতায় একের পর অপরাধ করে বেড়াচ্ছে, তা অভিযোগ জমা না পড়লে জানাই যেত না। উল্টোডাঙা থানা তদন্তে নেমে জানতে পারে, এই চক্রের মাথা রয়েছে ভিন রাজ্যে। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে নাসিক পুলিস মূল অভিযুক্ত ও তার এক শাগরেদকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কলকাতায় নিয়ে আসার জন্য নাসিক যাচ্ছে কলকাতা পুলিসের একটি টিম।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শেয়ারে বিপুল রিটার্নের টোপ গিলে ১৯ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন উল্টোডাঙা থানা এলাকার এক বাসিন্দা। বারবার যোগাযোগ করেও টাকা না পাওয়ায় তিনি যে প্রতারিত হয়েছেন, বুঝতে পারেন। এরপর উল্টোডাঙা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, শেয়ার ব্যবসার পাশাপাশি এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকে, এমন দু’টি সংস্থার জাল ওয়েবসাইট বানিয়েছে কেউ। অনেকেই না বুঝে তাতে ঢুকে পড়ছেন। কোন সংস্থার শেয়ারে কত লাভ, বাজারের অবস্থা কেমন, তা নিয়ে একাধিক তথ্য রয়েছে ওই ওয়েবসাইটে। সেখানেই লেখা রয়েছে, অনলাইনে বিনিয়োগ করা যাবে। প্রতারকদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই সেখানে টাকা বিনিয়োগ করেছেন। যোগাযোগের জন্য দেওয়া নম্বরে ফোন করলে অপর প্রান্ত থেকে জানানো হতো— কোন সংস্থায় এই সময় বিনিয়োগ করা লাভজনক। তাদের ফাঁদে পা দিয়ে এ রাজ্যের অনেকেই টাকা খুইয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে, কোন কোম্পানির শেয়ারের কত রেট। আসলে সবকটি ভুয়ো। তদন্তে নেমে জানা গিয়েছে, কিছুদিন পর পর যোগাযোগের নম্বরটি পাল্টে ফেলছে অভিযুক্তরা। মোবাইলের সূত্র ধরে জানা যায়, প্রতারণার শিকড় ভিন রাজ্যে। এর মাথা কমলেশ নামের এক ব্যক্তি। প্রতারণার মূল পরিকল্পনা তার। কমলেশের সহযোগীর নাম উদয়। তারা ডেরা বদলে অপারেশন চালাচ্ছে দেশজুড়ে। একাধিক আইপি অ্যাড্রেসের সন্ধান মিলেছে। জানা গিয়েছে, তারা প্রতারণা করার জন্য একাধিক কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ব্যবহার করত।
খোঁজ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা দেখেন, বিভিন্ন রাজ্যে একই অভিযোগে তাদের নামে এফআইআর হয়েছে। এই কায়দায় তারা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়েছে। এর মাঝে কলকাতা পুলিসের কাছে খবর আসে, কমলেশ ও উদয় ধরা পড়েছে নাসিকে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে কয়েক লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এরপরই তাদের হেফাজতে নিতে উদ্যোগী হয় কলকাতা পুলিস। আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই অভিযুক্তকে আনতে নাসিক রওনা হচ্ছে টিম।
খোঁজ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা দেখেন, বিভিন্ন রাজ্যে একই অভিযোগে তাদের নামে এফআইআর হয়েছে। এই কায়দায় তারা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়েছে। এর মাঝে কলকাতা পুলিসের কাছে খবর আসে, কমলেশ ও উদয় ধরা পড়েছে নাসিকে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে কয়েক লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এরপরই তাদের হেফাজতে নিতে উদ্যোগী হয় কলকাতা পুলিস। আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই অভিযুক্তকে আনতে নাসিক রওনা হচ্ছে টিম।



