Bartaman Logo
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গত ২০ বছরের আইনি যুদ্ধে জয় দোকানির, ক্ষতিপূরণ ডাকঘরের

কথায় বলে সবুরে মেওয়া ফলে। আবার ধৈর্যের ফল মিঠে। বাংলার চিরন্তন এই প্রবাদবাক্য ফের সত্যি বলে প্রমাণিত হল ২০ বছরের আইনি লড়াই শেষে মেলা সুবিচারে।

গত ২০ বছরের আইনি যুদ্ধে জয় দোকানির, ক্ষতিপূরণ ডাকঘরের
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: কথায় বলে সবুরে মেওয়া ফলে। আবার ধৈর্যের ফল মিঠে। বাংলার চিরন্তন এই প্রবাদবাক্য ফের সত্যি বলে প্রমাণিত হল ২০ বছরের আইনি লড়াই শেষে মেলা সুবিচারে। হাসি ফুটল গরিব এক পান দোকানির মুখে। শেষমেশ আইনি যুদ্ধে হার মানতে হয়েছে ডাকঘর কর্তৃপক্ষকে।  

Advertisement

আদালতের গুঁতোয় কার্যত চাপে পড়েই ওই পান দোকানিকে ক্ষতিপূরণের টাকা মেটাতে বাধ্য হল ডাকঘর কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এই ক্ষতিপূরণ পেয়ে খুশি দুলালচন্দ্র খাগ। চেক হাতে পেয়ে স্বস্তির হাসি দুবরাজপুরের ওই বাসিন্দার মুখে।
২০০৬ সালে ঘটনা। দুবরাজপুর ডাকঘরের প্রাচীর ঘেঁষেই একটি ছোটো পানের গুমটি চালাতেন স্থানীয় বাসিন্দা অজিত কুমার খাগ। প্রাচীরের উলটো দিকেই ডাকঘরের জায়গায় রয়েছে প্রকাণ্ড বটগাছ। সেই বটগাছের কারণেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিল অজিতবাবুর ছোট্ট দোকান। ফাটল ধরে যাচ্ছিল দোকানের ছাদে। ক্ষতিপূরণ চেয়ে ২০০৬ সালে দুবরাজপুর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অজিতবাবু। ২০০৯ সালে আদালত ডাকঘরকে ১৬ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ডাকঘর কর্তৃপক্ষ সেই টাকা না মিটিয়ে উল্টে আইনি যুদ্ধে নেমে পড়ে। সিউড়ি জজ কোর্টে তাঁরা আপিল করে। এরই মধ্যে অজিতবাবুর মৃত্যু হলে আইনি লড়াইয়ের হাল ধরেন তাঁর ছেলে দুলালবাবু। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর শেষ হাসি হাসলেন দুলালবাবু। ২০২৫ সালে জজ কোর্ট ডাকঘরের আপিল খারিজ করে। পূর্বের ১৬ হাজার টাকার সঙ্গে আরও ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত জরিমানা ধার্য হয়। 
মামলাকারীর আইনজীবী স্বরূপ আচার্যর কথায়, মোট ১৮ হাজার টাকা পাওনা হওয়ার পরেও এতদিন ডাকঘর কর্তৃপক্ষ তা মেটায়নি। তাই আমরা বকেয়া আদায়ে ফের দুবরাজপুর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আদালত সম্প্রতি পোস্টমাস্টারের ব্যবহৃত টেবিল, চেয়ার ও কম্পিউটার ক্রোক করে নিলামে তোলার হুকুম দেয়। সেই নির্দেশ হাতে পেয়ে টনক নড়ে ডাকঘরের। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতের নাজির সাহেব সদলবলে হাজির হন দুবরাজপুর পোস্ট অফিসে। এতেই চাপে পড়ে যান পোস্ট মাস্টার। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার জন্য কিছু সময় চেয়ে নেন। অবশেষে সেই ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয় ডাকঘর কর্তৃপক্ষ।
সোমবার সিউড়ি সাব ডিভিশন পোস্ট অফিসের কর্তা চন্দন সৌ ১৮ হাজার ৪৭৩ টাকার একটি চেক দুলালবাবুর হাতে তুলে দেন। বাবার দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এই ক্ষতিপূরণ পেয়ে খুশি ছেলে। আবেগপ্রবণ হয়ে দুলালবাবু বলেন, এই চেকটা পেয়ে সত্যিই খুশি হয়েছি। আমার আইনজীবী স্বরূপ আচার্য বিনা পারিশ্রমিকে দীর্ঘদিন মামলা লড়েছেন, তাঁকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এবার এই টাকা দিয়ে ক্ষতি হওয়া দোকানটা মেরামত করে বাবার ব্যবসা আবার নিজেই শুরু করতে চাই। 
মামলাকারীর আইনজীবী স্বরূপ আচার্য বলেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ২০ বছর ধরে ডাকঘর কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করেছে। অবশেষে ডাকঘর কর্তৃপক্ষ আমার মক্কেলের হাতে চেক তুলে দিয়েছেন। লড়াইয়ে জিতেছি আমরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ