Bartaman Logo
৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নলহাটিতে শ্যুটআউট, ১১ রাউন্ড গুলিবৃষ্টিতে জখম ৩

ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া নলহাটির উদয়নগর গ্রামে রবিবার রাতে শ্যুটআউট! দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর জখম হয়েছেন তিন যুবক।

নলহাটিতে শ্যুটআউট, ১১ রাউন্ড গুলিবৃষ্টিতে জখম ৩
  • ৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া নলহাটির উদয়নগর গ্রামে রবিবার রাতে শ্যুটআউট! দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর জখম হয়েছেন তিন যুবক। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। দুষ্কৃতীরা হেলমেট ও মাস্ক পরেছিল। ১১ রাউন্ড গুলি চালিয়ে তারা ঝাড়খণ্ডের দিকে চম্পট দেয়।

Advertisement

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত পৌনে এগারোটা নাগাদ উদয়নগর গ্রামের বাসিন্দা কাপড়ের ব্যবসায়ী বিকি শেখ দোকান বন্ধ করে তাঁর বন্ধু হাবিবুল হোসেনকে নিয়ে বাইকে বাড়ি ফিরছিলেন। উদয়নগর গ্রামের মোড়ে দুই যুবককে সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বিকি তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় সিভিক ভলান্টিয়ারকে ফোন করেন। সেই সময় ওই দুই যুবক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিকি ও হাবিবুল তাঁদের ধরে ফেলেন। এরই মধ্যে বিকির সম্পর্কে জামাই জনি শেখ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। অভিযোগ, ঠিক তখনই একটি বাইকে চেপে আরও দুই যুবক ঘটনাস্থলে হাজির হয় এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনজনকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। দুষ্কৃতীদের হাত থেকে বাঁচতে বিকি, জনি ও হাবিবুল পালানোর চেষ্টা করলেও মারাত্মকভাবে আহত হন। জানা গিয়েছে, জনি শেখের পেটে দু’টি এবং হাত ও পায়ে একটি করে মোট ৪টি গুলি লাগে। বিকি শেখের কোমরের নীচে গুলি লাগে এবং অন্য একটি গুলি পা ছুঁয়ে চলে যায়। একটি গুলি হাবিবুল হোসেনের পিঠ ছুঁয়ে চলে যায়। ঘটনার পরই দুষ্কৃতীরা দু’টি বাইকে চেপে ঝাড়খণ্ডের দিকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় ও পরিবারের লোকেরা জখমদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসেন। জনি ও বিকির অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জনির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে হাবিবুল রামপুরহাট হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। 
হাবিবুল বলেন, হামলাকারীদের বয়স ৩০-৩২ বছরের মধ্যে, সবার মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট ছিল। আমাদের ওপর মোট ১১ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে। বিকির ভা‌ই রাজীব শেখ বলেন, কী কারণে, কে বা কারা গুলি চালাল বুঝতে পারছি না। দোকানের সামনে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা দোকানের সামনেই মুখ ঢাকে। তবে তাদের চেনা যাচ্ছে না। 
ঘটনার খবর পেয়েই রাতেই নলহাটি থানার পুলিশ এসে এলাকা ঘিরে ফেলে। বিকির বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শাহে আলম ওরফে বিকির আর্থিক অবস্থা একসময় অত্যন্ত সাধারণ ছিল। বিকি লটারির টিকিট বিক্রি করতেন। পরে তিনি প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠেন। উদয়নগর গ্রামে তাঁর একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। এর আগে একাধিকবার নলহাটি ও রামপুরহাটের পাথ শিল্পাঞ্চলে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় বিবিকে। স্থানীয়দের মতে, ওদের নিজেদের মধ্যে শক্রতার জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। 
এদিকে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো রেষারেষির জেরে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। দুষ্কৃতীরা ঝাড়খণ্ডের দিকে পালিয়ে যাওয়ায়, সীমানা সংলগ্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতে ঝাড়খণ্ড পুলিশের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ জানিয়েছেন, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঠিক কী কারণে এই হামলা, তা স্পষ্ট নয়। তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ